জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন দ্রুত ও সহজভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আবেদনকারীদের জমা দেওয়া প্রমাণপত্র যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নির্ধারণ এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন জটিলতা দূর করতে এই কমিটি কাজ করবে।
রোববার (২ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক হাবিবা আখতার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি কার্যক্রম আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করা বিভিন্ন প্রমাণপত্র পর্যালোচনা এবং সংশোধন-সংক্রান্ত নীতিমালা আরও কার্যকর করতে চার সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী)। সদস্য হিসেবে থাকবেন উপ-পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী সেবা শাখা) এবং সহকারী পরিচালক (মুদ্রণ ও বিতরণ ইউনিট)। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী পরিচালক (সংশোধন ও প্রতিস্থাপন)।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে এনআইডি সংশোধনের আবেদনে কী ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে আবেদনগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা এবং প্রতিটি ধরনের সংশোধনের জন্য কী কী প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক হবে, তার একটি সুস্পষ্ট তালিকা তৈরি করা।
এছাড়া যেসব আবেদন পর্যাপ্ত প্রমাণপত্রের অভাবে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে বাতিল হয়েছে এবং পরে আবেদনকারীরা নতুন করে পর্যাপ্ত প্রমাণপত্রসহ আবেদন জমা দিয়েছেন, সেসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।
কমিটিকে এনআইডি সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক ও কারিগরি করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে নিষ্পত্তির সময় সিএমএস (CMS) পোর্টালে যেসব প্রযুক্তিগত সমস্যা বা জটিলতা দেখা দেয়, সেগুলো সমাধানে কী ধরনের সফটওয়্যার বা সিস্টেম পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়েও মতামত প্রদান করবে কমিটি।
এ ছাড়া এনআইডি লক, আনলক এবং রোলব্যাক-সংক্রান্ত কার্যক্রম কোন পরিস্থিতিতে এবং কী যুক্তিতে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে একটি নীতিগত সুপারিশও প্রণয়ন করবে এই কমিটি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে অনেক ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগছে। বিশেষ করে প্রমাণপত্রের অসঙ্গতি, নথিপত্র যাচাই এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নতুন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, সহজ এবং স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বর্তমানে নাগরিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ব্যাংক হিসাব খোলা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জমি নিবন্ধন, মোবাইল সিম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে এনআইডি অপরিহার্য। ফলে সংশোধন-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগ সাধারণ নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!