হলুদ কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী?

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
হলুদ কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী?

হলুদে থাকা কারকিউমিনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

রান্নায় মসলা হিসেবে হলুদের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। খাবারে রং ও স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন নিয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে বিভিন্ন গবেষণাও হয়েছে। কারকিউমিনের প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে হলুদ খেলেই নির্দিষ্ট রোগ ভালো হয়ে যায়—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।

হলুদের সম্ভাব্য উপকারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে জয়েন্টের ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাকে ঘিরে। কিছু গবেষণায় হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণে ব্যথা ও দৈনন্দিন চলাফেরার কিছু উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে কোন মাত্রায়, কত দিন এবং কোন ধরনের কারকিউমিন সবচেয়ে কার্যকর—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

কারকিউমিনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা হয়েছে। শরীরে প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কারকিউমিনের প্রভাব থাকতে পারে বলে প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে। তবে এসব গবেষণার অনেকটাই পরীক্ষাগারভিত্তিক বা সীমিত মানবগবেষণার ওপর নির্ভরশীল। তাই শুধু হলুদকে কোনো রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

খাবারে স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার করা সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। তবে বেশি পরিমাণে হলুদ বা কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন কারকিউমিনের এমন কিছু সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে, যেগুলো শরীরে দ্রুত শোষিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। এ ধরনের কিছু পণ্যের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনা পাওয়া গেছে। ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব বা চোখ-ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের কারকিউমিন বা হলুদের সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। ভেষজ ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে কিছু ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। গর্ভাবস্থায় খাবারে ব্যবহৃত স্বাভাবিক পরিমাণের বেশি হলুদ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের নিরাপত্তা নিয়েও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

তাই খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হলুদকে কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত নেওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও ব্যবহৃত ওষুধ বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page