শিক্ষার্থীদের শিল্পমুখী দক্ষতা বাড়াতে ওয়ালটনের সঙ্গে মাভাবিপ্রবির সমঝোতার উদ্যোগ

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের শিল্পমুখী দক্ষতা বাড়াতে ওয়ালটনের সঙ্গে মাভাবিপ্রবির সমঝোতার উদ্যোগ

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন করেন মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুরের অবস্থিত ওয়ালটনের প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাভাবিপ্রবি ও ওয়ালটনের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শিল্পকারখানার বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা, প্রযুক্তি ও উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা যখন সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ, প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে, তখন তাদের অর্জিত জ্ঞান আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পথও সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শেখার সুযোগ তৈরি করতে চায়। দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ওয়ালটনের বিভিন্ন কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। এর মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতার একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য এ সহযোগিতার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে ওয়ালটনের প্রযুক্তিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে শিল্পের বাস্তব চাহিদা ও প্রযুক্তিগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মাভাবিপ্রবি ও ওয়ালটনের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার পথ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মজীবনের প্রস্তুতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সমন্বয় ঘটানোর বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় মাভাবিপ্রবির পক্ষ থেকে ওয়ালটনের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page