নতুন পে স্কেলে শিক্ষকদের জন্য দুঃসংবাদ
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক নির্দেশনার অপেক্ষা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কীভাবে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা তৈরি হয়নি। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ধাপ ও পেনশন সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক কোনো নির্দেশনা রাখা হয়নি।
অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে পেনশনভোগীরাও পর্যায়ক্রমে বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন।
এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এরপর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পৃথক প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় তাঁদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন পাবেন। একই সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রও জানিয়েছিল, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তবে ১৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত জনবলকে নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং পৃথক প্রজ্ঞাপনের কাজ চলছে। এমপিওভুক্ত জনবলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও পৃথক নির্দেশনা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৩ হাজারের বেশি। ফলে নতুন পে-স্কেলের আওতায় তাঁদের বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে, তা বড়সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে বাড়িভাড়া ভাতায় ইতিমধ্যে পরিবর্তন এসেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া, ন্যূনতম ২ হাজার টাকা, কার্যকর করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হয়েছে।
এখন নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে গেলেও এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রে পৃথক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তাঁদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখন পরবর্তী আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
