ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণে ১৬০ জনপ্রতিনিধির সুপারিশ, মিলছে না নির্দেশনা
জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দাবি
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির দাবিতে ১৬০ জন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপসহ জনপ্রতিনিধির ডিও লেটার ও সুপারিশের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার দাবি করেছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট। সংগঠনটির দাবি, গত ২৩ আগস্ট এসব সুপারিশ জমা দেওয়ার পর প্রায় এক মাস পার হলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক মতামতপত্রে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরে শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট। এতে সংগঠনটি জানায়, ২০২৬ সালের বিশেষ সংকলনের জন্য ১৬০ জন জনপ্রতিনিধির ডিও লেটার ও সুপারিশের অনুলিপি গত ২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তি দীর্ঘদিনের দাবি। এ বিষয়ে ২০২৫ সালে সরকার ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান, স্বীকৃতি, পরিচালনা ও জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫’ প্রকাশ করেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও এ নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।
মতামতপত্রে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিয়েও সমস্যা তুলে ধরেছে শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট। সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সারা দেশে প্রায় ৪৫০ জন ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। তবে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পেলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখনো ওই অর্থ পায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, দেশে কোডপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে। বাকি প্রায় ৭ হাজার ৫০০ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে সংগঠনটির দাবি। তবে সরকারি তথ্যের সঙ্গে এ দাবির সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার মতো হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি তথ্যসূত্রে ১ হাজার ৫১৯টি অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়।
শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুবিধা নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট। তাদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যাগ, জুতা ও মিড ডে মিলের সুবিধা পাচ্ছে না।
শিক্ষকদের বেতন নিয়েও মতামতপত্রে অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১ হাজার ৬৯০টি শূন্য পদের অনুদান বা বেতন অনুমোদন করা হলেও এখনো ওই পদগুলোর বেতন ছাড় করা হয়নি। এ অর্থ দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া ২০১৮ ও ২০২৫ সালের নীতিমালা সংশোধন করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে মতামতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই কমিটি এখনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি বলে দাবি করেছে শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বর্তমানে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এমপিওসংক্রান্ত ২০২৫ সালের নীতিমালা এবং ২০২৬ সালের বিভিন্ন নোটিশ প্রকাশিত রয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সম্পর্কিত খসড়া তালিকার বিষয়ে আপত্তি বা মতামত দাখিলের নোটিশও প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর।
মতামতপত্রে সম্প্রতি প্রকাশিত অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত অনেক মাদ্রাসার নাম ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কেন এসব প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ পড়েছে, তা স্পষ্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের বকেয়া বা অনুমোদিত বেতন ছাড়, বাদ পড়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংশোধন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
