ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যেসব কাজে ঋণ দেবে সরকার
সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সরকার
বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। গৃহস্থালি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচপাম্পসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে এই ঋণ দেওয়া হবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগ বুধবার জারি করা এক পরিপত্রে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের দেওয়া ঋণের সুদহার হবে বার্ষিক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর। এর মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই অর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকা থেকে পুনর্বিন্যাস করে নেওয়া হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে।
এই অর্থায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে। এগুলো হলো ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। তিন প্রতিষ্ঠানকে সমানভাবে ৫০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে।
ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি সুবিধাভোগীদের অর্থ দিতে পারবে। পাশাপাশি অংশীদার বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও ঋণ বিতরণ করা যাবে। তবে কোনো সুবিধাভোগী ঋণখেলাপি হলে সেই ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি এই অর্থায়নে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং নেট মিটারিং সংযোগ নেওয়ার কাজ করা যাবে। পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপনেও ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রেও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। ফলে আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে ঋণের অর্থ ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা ঋণ পুনঃঅর্থায়নে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতেও এই ঋণ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রাথমিক বিনিয়োগের ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা হওয়ায় তুলনামূলক কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।
১০ বছরের ঋণমেয়াদ ও এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকায় সুবিধাভোগীরা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় নিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। তবে প্রকল্পের ধরন, ঋণের পরিমাণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত অনুযায়ী ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
নতুন এই অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে গৃহস্থালি পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে শুরু করে শিল্প ও কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর বিদ্যুৎ খাতের নির্ভরতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টায় এটি একটি অর্থায়নভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
