আজ সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আজ সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী

শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সাম্প্রতিক সংকট শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, এমসিসিআইসহ ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ নিয়ে একটি উপস্থাপনাও করা হয়।

বর্তমান গ্যাস-সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। এর প্রভাব শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে পড়ে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা নিয়ে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। তবে কোনো বড় অবকাঠামো বা জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে অনেকটাই এগিয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালকে সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আশা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনার প্রতিটি কাজ কখন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমা ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এগিয়ে-পিছিয়ে যেতে পারে, তবে সরকারের সামনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সরকারকে তার মেয়াদে পরিকল্পিত কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সময়মতো জনগণই ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। কিন্তু যে সরকার যখন দায়িত্বে থাকবে, তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ে।

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব শুধু উদ্যোক্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। তাঁর মতে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরছে এবং সেগুলোর সমাধানে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটিও জানানো হচ্ছে। এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় গণমাধ্যমের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমের স্পষ্ট ধারণা থাকলে তারা জনগণের কাছে বিষয়গুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন পরে জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদে দেশে পাঁচটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। মধ্যমেয়াদে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু এফএসআরইউয়ের ওপর নির্ভরশীল না থেকে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার মধ্যে টেকসই সমন্বয়ের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তিকে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার।

সভায় এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট শুরুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে আগামী দিনে দেশে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো হবে, তার একটি রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকটে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। সরকারের নতুন পরিকল্পনা ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয়, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page