নতুন পে-স্কেলে কার পেনশন কত বাড়বে
নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অবসরভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান নিট পেনশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন কাঠামোয় পেনশনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর পেনশনসংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ২০২৬ সালের ৩০ জুন অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা যে নিট পেনশন পেতেন, সেটিকে ভিত্তি ধরে নতুন করে নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে।
নতুন কাঠামোয় ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যাদের নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম ছিল, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ হারে বাড়বে। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশনের সর্বনিম্ন সীমা ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যাদের নিট পেনশন ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাদের জন্য বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশনের সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের পেনশন বাড়বে ৬৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ শ্রেণির সর্বনিম্ন নিট পেনশন ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশনের সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া যাদের নিট পেনশন ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি, তাদের জন্য বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ। এই শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশনের সর্বনিম্ন পরিমাণ ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
তবে যেসব অবসরভোগী ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাদের জন্য আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। তারা ২০২৭ সালের ১ জুলাই পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।
নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে নিট পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য প্রচলিত বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হবে বলেও বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারী মারা গেলে তাঁর পরিবার প্রচলিত পারিবারিক পেনশন বিধি অনুযায়ী পেনশন, আনুতোষিক ও অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা পাবে।
নতুন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রথমে নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। এরপর ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে একটি বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকেই সংশ্লিষ্ট অবসরভোগীদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
অবসরোত্তর ছুটি ও ছুটি নগদায়নের সুবিধাও নতুন কাঠামোয় বহাল রাখা হয়েছে। বিদ্যমান ছুটির বিধান অনুযায়ী, ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে কোনো কর্মচারী পূর্ণ গড় বেতনে ১২ মাসের অবসরোত্তর ছুটি ভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে অবসর গ্রহণের সময় ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধাও থাকবে।
পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট বিধান ও আদেশ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড রুলস, ১৯৭৯-এর সর্বশেষ সংশোধনী, দ্য পেনশনস অ্যাক্ট, ১৮৭১, পেনশন রুলস অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস-এর সর্বশেষ সংশোধনী এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০সহ অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ফলে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে মূল পরিবর্তন হচ্ছে নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ। বিদ্যমান নিট পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে। তবে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত বিদ্যমান পেনশন বহাল থাকবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
