টাওয়ার ছাড়াই মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইটভিত্তিক নতুন সেবা আনছে বাংলালিংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
টাওয়ার ছাড়াই মোবাইল নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইটভিত্তিক নতুন সেবা আনছে বাংলালিংক

স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে স্যাটেলাইট মোবাইল সেবা চালু করতে চায় বাংলালিংক

দেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, চর, দ্বীপ, উপকূল ও গভীর সমুদ্রে থাকা মানুষকে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (ডিটুসি) সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলালিংক। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হয়েছে দাবি করে এবার বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালুর অনুমতি চেয়েছে মোবাইল অপারেটরটি।

স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে এই সেবা চালু করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলালিংক। অনুমোদন পেলে শুরুতে এসএমএস ও লাইট ডেটা সেবা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে ভয়েস কল ও পূর্ণাঙ্গ ডেটা সেবা যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

বর্তমানে দেশের সব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, দ্বীপ, চর ও গভীর সমুদ্র এলাকায় টাওয়ার স্থাপন করা ব্যয়বহুল ও কঠিন। এসব এলাকার জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা বিকল্প সমাধান হতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কীভাবে কাজ করবে ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি

সাধারণ মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবহারকারীর ফোন থেকে পাঠানো সংকেত প্রথমে নিকটবর্তী টাওয়ারে যায়। কিন্তু কোনো এলাকায় টাওয়ার না থাকলে বা দুর্যোগে টাওয়ার অচল হয়ে গেলে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে মুঠোফোনের সংকেত সরাসরি মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে পৌঁছাবে। স্যাটেলাইট সেই সংকেত গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে।

এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হলো, ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কোনো স্যাটেলাইট ফোন বা বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হবে না। উপযোগী সাধারণ ফোর–জি মুঠোফোন দিয়েই এই সেবা নেওয়া সম্ভব হবে।

দুর্গম অঞ্চলে কেন প্রয়োজন এই প্রযুক্তি

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। বর্তমানে অপারেটরগুলোর নিজস্ব টাওয়ার রয়েছে ২১ হাজারের বেশি। এর বাইরে আরও কয়েক হাজার টাওয়ার ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে জনবসতি কম বা দুর্গম এলাকায় টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেশি হওয়ায় সেখানে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব এলাকায় সীমিত হলেও মোবাইল যোগাযোগসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।

কোথায় হয়েছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য বিটিআরসির অনুমতি চেয়েছিল বাংলালিংক। পরে দুই মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট (পিওসি) পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরে থাকা বান্দরবান ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রযুক্তিটি পরীক্ষা করা হয়।

বাংলালিংক জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে সেবাটির কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে। সেখানে এসএমএস, ওটিটি মেসেজিং এবং ওটিটি ভয়েস কলের মতো সুবিধা প্রদর্শন করা হয়।

শুরুতে মিলবে সীমিত সেবা

বাণিজ্যিক অনুমোদন পেলে প্রথম পর্যায়ে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলালিংকের। তবে শুরুতেই সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ডেটা সেবা পাওয়া যাবে না।

প্রযুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অবস্থায়ও সীমিত ব্যান্ডউইথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।

অনুমোদনের অপেক্ষায় বাংলালিংক

বাংলালিংক জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়া গেলে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি চালু করা সম্ভব হবে।

তবে বাণিজ্যিক সেবা চালুর আগে বিটিআরসির অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষামূলক অনুমোদনকে স্থায়ী বাণিজ্যিক অনুমোদন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

বিটিআরসি জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডিরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page