দেশজুড়ে ভিডিও স্ট্রিমিং আরও দ্রুত করতে গ্রামীণফোনের নতুন উদ্যোগ
দ্রুত ভিডিও স্ট্রিমিং নিশ্চিত করতে গ্রামীণফোনের নতুন উদ্যোগ
দেশজুড়ে আরও শক্তিশালী ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা ও নিরবচ্ছিন্ন ভিডিও স্ট্রিমিং নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান বাংলাদেশ, ওয়ান ইন্টারনেট’ নামে নতুন উদ্যোগ চালু করেছে টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কনটেন্ট, ডিজিটাল সেবা ও বিনোদনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করা হবে।
গ্রামীণফোনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে মানুষের ডিজিটাল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভিডিও কনটেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বিনোদন, লাইভস্ট্রিমিংসহ বিভিন্ন ধরনের ভিডিও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ দেখছেন। এ কারণে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন ভিডিও স্ট্রিমিং নিশ্চিত করতে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তাদের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিস্তৃত লোকাল ক্যাশ ইকোসিস্টেম। এর মাধ্যমে বেশি ব্যবহৃত বা জনপ্রিয় কনটেন্টগুলো ব্যবহারকারীদের অবস্থানের তুলনামূলক কাছাকাছি সংরক্ষণ করা হয়। ফলে প্রতিবার দূরের আন্তর্জাতিক সার্ভার থেকে কনটেন্ট আনতে হয় না।
সহজভাবে বলতে গেলে, কোনো গ্রাহক জনপ্রিয় ভিডিও বা ডিজিটাল কনটেন্ট দেখতে চাইলে সেই তথ্য অনেক দূরের সার্ভার থেকে এসে পৌঁছানোর পরিবর্তে লোকাল ক্যাশিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা সার্ভার থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এতে ডেটার যাত্রাপথ কমে যায় এবং ভিডিও লোড হওয়ার সময়ও কমে আসে বলে জানিয়েছে গ্রামীণফোন।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কে একটি ভিডিওর প্রথম বাইট লোড হতে সময় লাগে মাত্র ৫৫ মিলিসেকেন্ড। গ্রামীণফোনের ভাষ্য, এই গতি ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে। এর ফলে লাইভস্ট্রিমিং, ভিডিও স্কিপ করা কিংবা একটি ভিডিও শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্ব বা কনটেন্ট লোড করার সময় অপেক্ষা কমে আসছে।
গ্রামীণফোনের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন তাদের নেটওয়ার্কে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ঘণ্টা ভিডিও স্ট্রিম করা হয়। এই সময়কে একটানা হিসাব করলে তা প্রায় ৪০ বছরের সমান। বিপুল পরিমাণ ভিডিও ট্রাফিক সামাল দিতে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৭০০ মেগাহার্টজ ও ২৬০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহার করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি টাওয়ারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে অপারেটরটি।
গ্রামীণফোনের মতে, ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করাই যথেষ্ট নয়; কনটেন্ট ব্যবহারকারীর কাছে কত দ্রুত পৌঁছাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েক মুহূর্তের বিলম্বও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর পাশাপাশি কনটেন্ট ডেলিভারি ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‘ওয়ান বাংলাদেশ, ওয়ান ইন্টারনেট’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য তুলে ধরেছে গ্রামীণফোন। রাজধানী বা বড় শহরের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকার ব্যবহারকারীরাও যাতে নিজেদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিনোদন সহজে ব্যবহার করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই নেটওয়ার্ক সক্ষমতা সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে ভিডিওনির্ভর ডিজিটাল ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কে ডেটা ট্রাফিকও বাড়ছে। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক স্পেকট্রাম ব্যবহার এবং লোকাল ক্যাশিংয়ের মতো প্রযুক্তির সমন্বয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে গ্রামীণফোন।
সব মিলিয়ে নতুন উদ্যোগটির মাধ্যমে দেশজুড়ে গ্রাহকদের কাছে দ্রুত কনটেন্ট পৌঁছে দেওয়া, ভিডিও লোডিংয়ের সময় কমানো এবং অনলাইন ভিডিও ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
