শিক্ষকদের টিকটক নিয়ে যা বললেন ববি হাজ্জাজ

প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের টিকটক নিয়ে যা বললেন ববি হাজ্জাজ

অবসর সময়ে শিক্ষকদের টিকটক ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষকদের অবসর সময়ে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। বিদ্যালয়ের নীতিমালা করে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত সময়ের এমন কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ঠিক হবে না। তবে ক্লাসরুমে টিকটক করা নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নীতিমালা করতে পারে—এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা টিকটক করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা রয়েছে। একজন ব্যক্তি তাঁর অবসর সময়ে কী করবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। স্কুলের নীতিমালা করে ক্লাসরুমে টিকটক করা নিষিদ্ধ করা হলে সেটি অন্যায় হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আলাদা। ক্লাস নেওয়া বা বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষক কী ধরনের আচরণ করবেন, সেটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মের আওতায় থাকতে পারে। কিন্তু কর্মঘণ্টার বাইরে ব্যক্তিগত সময় কীভাবে কাটাবেন, সে বিষয়ে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রশ্নে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

সংলাপে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতনকে তিনি কোনো ‘ইস্যু’ হিসেবে দেখছেন না। এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মাত্র সাত মাসের হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি শিখতে চান।

ববি হাজ্জাজ বলেন, তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা সাত মাসের। কিন্তু আলোচনায় অংশ নেওয়া অনেকেরই এ বিষয়ে ৭, ১৭ কিংবা ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তিনি তাঁদের সঙ্গে তর্ক না করে তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতে চান। একই সঙ্গে সাত মাসের দায়িত্ব পালনের সময়ে পরিসংখ্যান ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বর্তমান বেতন কাঠামোর তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন প্রাথমিক শিক্ষক ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দেন। নিয়োগের পর তাঁরা সরকারি বেতন কাঠামোর ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পান।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী এ পদে মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতদিন প্রাথমিক শিক্ষকদের এ পদে মূল বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা। অন্যান্য ভাতা যুক্ত করার পরও চাকরির শুরুতে মোট বেতন ২০ হাজার টাকার নিচে থাকত।

শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে সংলাপে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মানতে হবে, তবে ব্যক্তিগত সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page