জ্বালানি সংকটে গাজার কুয়েত হাসপাতালে রোববার থেকে অধিকাংশ সেবা বন্ধ

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকটে গাজার কুয়েত হাসপাতালে রোববার থেকে অধিকাংশ সেবা বন্ধ

জ্বালানি সংকটে গাজার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

গাজার অন্যতম বড় কুয়েত হাসপাতাল আগামী রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় অস্ত্রোপচার, প্রসূতি সেবা, বহির্বিভাগসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ বন্ধ রাখতে হবে। তবে সাধারণ জরুরি বিভাগ ও প্রসূতি জরুরি বিভাগ চালু থাকবে। খবর আলজাজিরার।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে অবহিত হয়েছে। জ্বালানি না থাকলে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রমও ব্যাহত হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে প্রসূতি সেবা, বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অ্যাম্বুলেন্স এবং রোগী পরিবহন সেবাও স্থগিত করা হবে। তবে গুরুতর ও জরুরি অবস্থায় থাকা রোগীদের জন্য সাধারণ জরুরি বিভাগ চালু রাখা হবে। প্রসূতি রোগীদের জন্য জরুরি সেবাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালটির এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। হাসপাতালগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য মূলত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি ও ইঞ্জিন তেলের ঘাটতির কারণে এসব জেনারেটর চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় চিকিৎসাসেবা সচল রাখাও ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জ্বালানি, ইঞ্জিন তেল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে কয়েকটি হাসপাতালের জেনারেটর ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব জেনারেটর এখনো চালু আছে, সেগুলোও সার্বক্ষণিক ব্যবহারের কারণে সীমিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে। ফলে হাসপাতালের সব জীবন রক্ষাকারী বিভাগে একই সময়ে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে খান ইউনিস এলাকার নাসের হাসপাতালেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেখা যায়। হাসপাতালটির কর্মীরা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে বিভিন্ন ভবনে পালাক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। হাসপাতালের চারটি জেনারেটরের মধ্যে একটি অচল হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও সীমিত হয়ে যায়।

আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে রেশনিং করছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি বিভাগ চালু রাখতে হাসপাতালগুলোকে সীমিত জ্বালানি দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।

কুয়েত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেলে প্রতিদিন হাজারো ফিলিস্তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার ও প্রসূতি সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

জ্বালানি সংকটের কারণে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী পরিবহন সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও কোনো রোগীকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচার ও প্রসূতি সেবা বন্ধ থাকায় জটিল রোগী এবং সন্তান প্রসবের অপেক্ষায় থাকা নারীদের চিকিৎসা পাওয়া সীমিত হয়ে যাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের জেনারেটর সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে বেশ কয়েকটি হাসপাতালের জেনারেটর অচল হয়ে পড়েছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ন্যূনতম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

কুয়েত হাসপাতালের ক্ষেত্রে আপাতত জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় রোববার থেকে অধিকাংশ নিয়মিত সেবা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত থাকবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page