ঈদ মানেই প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দ। আর সেই আনন্দকে ঘিরে এখন মহাসড়কজুড়ে বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে, আবার কেউ মোটরবাইক চালিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন। তবে তাড়াহুড়া, ক্লান্তি কিংবা অসচেতনতার কারণে ঈদ যাত্রায় প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুনঃ- ৯৯৯ ডলারে নতুন মপেড-স্টাইল ই-বাইক আনলো Heybike, থাকছে ফুল সাসপেনশন ও ১৮০০ ওয়াট পাওয়ার
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই নিরাপদ যাত্রার জন্য আগে থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
যাত্রার আগে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা জরুরি
দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার আগে গাড়ি বা মোটরবাইকের অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
বিশেষ করে দেখে নিতে হবে—
- ব্রেক ঠিকভাবে কাজ করছে কি না
- টায়ারে পর্যাপ্ত বাতাস আছে কি না
- হেডলাইট, ব্রেক লাইট ও ইন্ডিকেটর সচল আছে কি না
- ইঞ্জিন অয়েল ও কুল্যান্ট ঠিক আছে কি না
- ব্যাটারি বা বাইকের চেইনে কোনো সমস্যা আছে কি না
- বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটিও মহাসড়কে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত গতি প্রাণঘাতী হতে পারে
ঈদে দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর তাড়ায় অনেকে গতিসীমা অমান্য করেন। বিশেষ করে ফাঁকা রাস্তা পেলেই গাড়ি বা বাইকের গতি বাড়িয়ে দেন।
কিন্তু সামান্য নিয়ন্ত্রণ হারালেই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত নয়, নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না
দীর্ঘ সময় ড্রাইভ করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মনোযোগ কমে যায়। এতে চোখে ঘুম চলে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো ঠিক নয়। মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
- যদি চোখে ঘুম আসে—
- নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামান
- মুখে পানি দিন
- চা বা কফি পান করুন
- প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন
মোটরবাইকে অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করুন
অনেক বাইকার ছোট দূরত্ব ভেবে হেলমেট ব্যবহার করেন না। কেউ আবার শুধু চালক হেলমেট পরেন, পেছনের যাত্রীকে দেন না।
এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
মানসম্মত হেলমেট দুর্ঘটনায় মাথার মারাত্মক আঘাতের ঝুঁকি অনেক কমায়।
এছাড়াও—
- জ্যাকেট ও গ্লাভস ব্যবহার করুন
- অতিরিক্ত গতিতে ওভারটেক করবেন না
- ভেজা রাস্তায় বাড়তি সতর্ক থাকুন
গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
ড্রাইভিংয়ের সময় ফোনে কথা বলা বা মেসেজ দেখা এখন বড় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
এক সেকেন্ডের জন্য মনোযোগ সরলেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রয়োজনে গাড়ি থামিয়ে কথা বলুন।
শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দিন
পরিবার নিয়ে যাত্রা করলে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
শিশুদের গাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা বা কোলে বসিয়ে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ যাত্রায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখা ভালো।
আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা জেনে বের হন
বর্ষা বা ঝড়ো আবহাওয়ায় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। তাই যাত্রার আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া উচিত।
রাতে ড্রাইভ করলে হাই বিম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন
যাত্রার সময় সঙ্গে রাখুন—
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- গাড়ির রেজিস্ট্রেশন
- ইন্স্যুরেন্স
- প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র
এতে পথে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়ানো যাবে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদ যাত্রায় ধৈর্য, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল ড্রাইভিংই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। কারণ নিরাপদে প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোই ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
সূত্রঃ- সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রতিবেদন।
আরও পড়ুনঃ- ১৬৫ সিসির বাইকে বছরে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কর, যেভাবে অগ্রিম কর আদায় করা হবে









