অটোরিকশা-নছিমন-করিমন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা
অটোরিকশা-নছিমন-করিমন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা
দেশে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করা তিন চাকার যানবাহনের জন্য অবশেষে আসছে নতুন নীতিমালা। অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় এনে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় এসব যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, নির্দিষ্ট রুট এবং আইনি তদারকির ব্যবস্থা রাখা হবে।
জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, দেশে তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক নিরাপত্তা, যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে এসব যানবাহন পরিচালনায় একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
মন্ত্রী জানান, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে অনুমোদনহীন বা নিবন্ধনবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চালকদের বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা হবে, যাতে দক্ষতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এছাড়া কোন এলাকায় কোন ধরনের যান চলতে পারবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, নছিমন, করিমন ও ভটভটির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। তবে এসব যানবাহনের বড় অংশই নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নির্ধারণ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, হাইকোর্ট বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেক এলাকায় এসব যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে। বিশেষ করে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন, করিমন ও ভটভটির অনিয়ন্ত্রিত চলাচল মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ধীরগতির ও অননুমোদিত যানবাহনের উপস্থিতি বারবার উঠে এসেছে। বিশেষ করে মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সঙ্গে এসব যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় পার্থক্য থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চায়, অন্যদিকে এসব যানবাহনের চালক ও মালিকদেরও একটি বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনতে চায়। ফলে ভবিষ্যতে নিবন্ধন, লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট রুট ব্যবস্থার মাধ্যমে তিন চাকার যানবাহন খাত আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিবন্ধন, লাইসেন্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি নিশ্চিত করতে পারলে সড়ক নিরাপত্তা আরও বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এখন নীতিমালাটি কবে চূড়ান্ত হবে এবং কী ধরনের বিধান রাখা হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আপনার মতামত লিখুন
Array