টিসিবি ডিলার কমিশন কত, পণ্যভেদে আয় কীভাবে হিসাব হয়
টিসিবি (TCB) ডিলার কমিশন কত টাকা
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির স্বল্পমূল্যের পণ্য বিতরণ কার্যক্রমে অনুমোদিত ডিলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরকার নির্ধারিত পদ্ধতিতে টিসিবির পণ্য উত্তোলন করে নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র বা ফ্যামিলি কার্ডধারী উপকারভোগীদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন তারা। এ কারণে টিসিবির ডিলার হতে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে ডিলার কমিশন কত এবং বিক্রি করে কী পরিমাণ আয় করা যায়—এ নিয়ে।
তবে টিসিবি ডিলারের কমিশনকে সব সময় একটি নির্দিষ্ট পণ্যভিত্তিক স্থায়ী হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। টিসিবির বর্তমান ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এবং ২০২৬ সালে প্রকাশিত ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। ফলে ডিলারের কমিশন, পণ্য বরাদ্দ, বিক্রয় পদ্ধতি ও অন্যান্য শর্ত জানতে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
টিসিবির নীতিমালা অনুযায়ী, ডিলারদের বরাদ্দকৃত পণ্যের মূল্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করে পণ্য সংগ্রহ করতে হয়। ২০২৫ সালের সংশোধিত ডিলার ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দ অনুযায়ী পণ্যের মূল্য ডেলিভারির আগে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার পর ডিলাররা পণ্য গ্রহণ করেন এবং নিজ দায়িত্বে তা পরিবহন করে নির্ধারিত স্থান বা বিক্রয়কেন্দ্রে সংরক্ষণ করেন। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্ধারিত বিক্রয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডধারী উপকারভোগীদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হয়।
ডিলারের আয় মূলত কমিশনের ওপর নির্ভরশীল। তবে কমিশনকে সাধারণ বাজারের মতো পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত লাভ হিসেবে দেখা যাবে না। টিসিবির পণ্য সরকার নির্ধারিত ভর্তুকিমূল্যে বিক্রি করতে হয়। ফলে ডিলার কত পণ্য বিক্রি করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে কত কমিশন নির্ধারিত হয়েছে—তার ওপর মোট কমিশন আয় নির্ভর করে।
বিভিন্ন সময়ে টিসিবির পণ্য বিক্রির কমিশন নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন হার পাওয়া গেছে। যেমন, ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে রংপুরে রমজান উপলক্ষে টিসিবির পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি কেজি বা লিটারে সাড়ে ৩ টাকা কমিশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কার্যক্রমে একজন ডিলারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও সয়াবিন তেল দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, আরেকটি প্রতিবেদনে টিসিবির পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ডিলারদের প্রতি কেজি বা লিটারে সাড়ে ৪ টাকা কমিশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। আবার পুরোনো একটি প্রতিবেদনে প্রতি পণ্যে ৫ টাকা কমিশনের কথাও পাওয়া যায়। এসব উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, কমিশনের হার সব সময় একই থাকে—এমন দাবি করা ঠিক নয়।
তাই সয়াবিন তেলে ২–৩ টাকা, চিনিতে ১.৫০–২ টাকা, মসুর ডালে ২ টাকা বা ছোলায় ১.৫০–২ টাকা—এ ধরনের নির্দিষ্ট হারকে বর্তমান ২০২৬ সালের সরকারি কমিশন হিসেবে প্রকাশ করার মতো নির্ভরযোগ্য সরকারি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা বা মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট সরকারি আয়সীমাও পাওয়া যায়নি।
একজন ডিলারের সম্ভাব্য কমিশন হিসাব করতে হলে সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য টিসিবি যে কমিশন নির্ধারণ করেছে এবং তাকে যে পরিমাণ পণ্য বরাদ্দ দিয়েছে, তা জানা প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কার্যক্রমে যদি প্রতি কেজি বা লিটারে সাড়ে ৩ টাকা কমিশন নির্ধারিত হয় এবং একজন ডিলার মোট ১ হাজার কেজি বা লিটার পণ্য বিক্রি করেন, তাহলে মোট কমিশন হবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। একইভাবে ২ হাজার ইউনিট পণ্য বিক্রি হলে কমিশন হবে ৭ হাজার টাকা। এটি কেবল হিসাব বোঝানোর উদাহরণ, বর্তমান সরকারি বরাদ্দ বা কমিশনের হার নয়।
এর সঙ্গে ডিলারের প্রকৃত ব্যবসায়িক আয় ও নিট লাভ এক বিষয় নয়। পণ্য পরিবহন, শ্রমিক, লোডিং-আনলোডিং, গুদাম বা বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় থাকলে কমিশন থেকে এসব খরচ বাদ দিতে হবে। টিসিবির নীতিমালায়ও ডিলারকে নিজ দায়িত্বে পণ্য পরিবহন করে গুদাম, দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
টিসিবির বর্তমান ওয়েবসাইটে ডিলার নিয়োগের জন্য আলাদা সেবা, ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এবং ডিলার শূন্য তালিকাও প্রকাশ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালেও বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডিলার নিয়োগ ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ডিলার হতে আগ্রহী ব্যবসায়ীদের তাই শুধু কমিশনের অঙ্ক দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সর্বশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ডিলার নিয়োগ নীতিমালা, পণ্য বরাদ্দ, বিক্রয় পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের কমিশন হার ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। টিসিবির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস।
সব মিলিয়ে, টিসিবি ডিলারের কমিশন একটি নির্দিষ্ট স্থায়ী অঙ্ক নয়—কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট পণ্যে বর্তমানে কত কমিশন দেওয়া হচ্ছে জানতে হলে সেই সময়ের টিসিবির অফিস আদেশ, নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পুরোনো কমিশনের হারকে বর্তমান সরকারি হার ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
