বিদেশফেরত কর্মীদের নিয়ে নতুন উদ্যোগ, আসছে যে ব্যবস্থা
বিদেশফেরত কর্মীদের সমাজ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় যুক্ত করার উদ্যোগ।
বিদেশে কর্মসংস্থান শেষে দেশে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীদের সমাজ ও অর্থনীতিতে পুনরায় যুক্ত করতে পুনঃএকত্রীকরণ বা ‘রিইন্টিগ্রেশন’ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে সরকারি গেজেটে। এর মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের আওতায় আনার একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নথিতে প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নথিতে ‘reintegration’ শব্দটি ব্যবহার করে বিদেশফেরত কর্মীদের দেশে ফিরে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং সমাজ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বিদেশে কাজ শেষে দেশে ফেরার পর একজন কর্মীর সামনে কর্মসংস্থান, আয়, সামাজিক পরিবেশ ও পারিবারিক জীবনে নানা ধরনের পরিবর্তন তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় শুধু দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই প্রক্রিয়াটি সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের পুনরায় সমাজ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার বিষয়টি নীতিমালায় গুরুত্ব পেয়েছে।
গেজেটে পুনঃএকত্রীকরণকে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এতে বিদেশফেরত কর্মীদের দেশে ফেরার পর তাদের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় সহায়তা দেওয়ার ধারণা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনরায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত।
নথিতে প্রত্যাগত কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণ প্রসঙ্গে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দেশে ফেরার পর কর্মীদের পরিস্থিতি বিবেচনা করা, প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের স্বাভাবিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয় রয়েছে।
বিশেষ করে বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা কর্মীদের দেশে ফেরার পর তাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিও পুনঃএকত্রীকরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। এর ফলে বিদেশফেরত কর্মীরা দেশে ফিরে আবারও কর্মসংস্থান বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে গেজেটের নথি অনুযায়ী, পুনঃএকত্রীকরণকে কেবল কর্মসংস্থানের বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি। সামাজিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া এবং সমাজে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
নথিতে বিদেশফেরত কর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ‘stigmatised’, ‘abused’, ‘harassed’ ও ‘vulnerable’—এ ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা প্রত্যাগত কর্মীদের উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ বিদেশে নির্যাতন, হয়রানি বা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির শিকার হয়ে দেশে ফেরা কর্মীদের প্রতিও পুনঃএকত্রীকরণ ব্যবস্থায় বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গেজেটে প্রকাশিত এই কাঠামোর মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের দেশে ফেরার পর নতুন করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে যুক্ত করার বিষয়টি নীতিগতভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এর লক্ষ্য হিসেবে প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের পুনঃএকত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও সংগঠিত করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
