রিকশাচালকের মানবিকতায় নিরাপদে ফিরল পথহারা দুই শিশু
কাজীর মোড় থেকে পথ হারানো দুই শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকায় রাতের আঁধারে পথ হারিয়ে কান্নাকাটি করা দুই শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় এক রিকশাচালকের মানবিক উদ্যোগ, একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পৌঁছানো এবং পুলিশ সুপারের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় অল্প সময়ের মধ্যেই শিশু দুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কাজীর মোড়ের মূল সড়কে দুই শিশুকে ছুটোছুটি করতে দেখেন স্থানীয়রা। পথ হারিয়ে ফেলায় তারা নিজেদের বাড়ির ঠিকানা বা পরিবারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছিল না। একপর্যায়ে তারা কান্নাকাটি শুরু করে।
বিষয়টি নজরে পড়ে রিকশাচালক মো. রিপন হোসেনের। তিনি রিকশা থামিয়ে শিশু দুটির কাছে যান এবং পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। পরে শিশু দুটির পরিবারের সন্ধান না পাওয়ায় একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি নওগাঁর পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে নওগাঁ সদর থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং তাদের পরিবারের সন্ধানে খোঁজখবর শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর একজন মো. মুজাহিদ (৪)। তার বাবার নাম লালচাঁন। অপরজন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (৩), তার বাবার নাম মো. সুইট। দুজনই নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, শিশু দুটির পরিবার উকিলপাড়া শাহিন স্কুলের পাশে রেজাউল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকেন। পরিবারের অগোচরে খেলতে খেলতে শিশু দুটি বাসা থেকে বের হয়ে মূল সড়কের দিকে চলে আসে। পরে পথ হারিয়ে কাজীর মোড় এলাকায় গিয়ে তারা কান্নাকাটি শুরু করে।
পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর স্বজনরা থানায় গিয়ে শিশু দুটিকে শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ তাদের পরিবারের জিম্মায় তুলে দেয়। সন্তানদের নিরাপদে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় শিশু দুটিকে বিপদ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় রিকশাচালক মো. রিপন হোসেনের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানানো সাংবাদিক এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সদর থানা পুলিশের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের ছোট শিশুদের চলাফেরার বিষয়ে আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের একা রাস্তায় বের হতে না দেওয়া এবং বাইরে খেলাধুলার সময় তাদের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামান্য অসতর্কতায় শিশুরা পথ হারানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
একজন রিকশাচালকের মানবিকতা, একজন সাংবাদিকের দ্রুত উদ্যোগ এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতার সমন্বয়ে দুই শিশু নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্বজনদের মধ্যে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
