ই-পাসপোর্টের বর্তমান ফি কত, ৫ ও ১০ বছরের সব হিসাব এক নজরে

প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
ই-পাসপোর্টের বর্তমান ফি কত, ৫ ও ১০ বছরের সব হিসাব এক নজরে

ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা খরচ হবে, তা নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং কত দ্রুত পাসপোর্ট হাতে নিতে চান তার ওপর। বর্তমানে দেশে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদের সুবিধা রয়েছে। একই পাসপোর্টের জন্য নিয়মিত, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস—এই তিন ধরনের ডেলিভারি সেবা অনুযায়ী ফিও আলাদা। বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালে ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ করা ফি ও পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী এসব সেবার নির্ধারিত মূল্য দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ভেতর থেকে সবচেয়ে কম খরচে ই-পাসপোর্ট করতে চাইলে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ডেলিভারি বেছে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা। একই পাসপোর্ট এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে নিতে চাইলে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ৮ হাজার ৬২৫ টাকা দিতে হবে। সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী এসব ফি ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ নির্ধারিত।

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডেলিভারি ফি ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। দ্রুত সেবা নিতে চাইলে এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে খরচ হবে ৮ হাজার ৫০ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য দিতে হবে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা। ফলে ৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছরের মেয়াদ বেছে নিলে স্বাভাবিক ডেলিভারির ক্ষেত্রেই ফি ১ হাজার ৭২৫ টাকা বেশি হয়।

যাদের পাসপোর্টে বেশি পৃষ্ঠা প্রয়োজন, তাদের জন্য রয়েছে ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট। ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৬ হাজার ৩২৫ টাকা। এক্সপ্রেস ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১২ হাজার ৭৫ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ বেশি পৃষ্ঠার পাশাপাশি দ্রুত ডেলিভারি নিলে মোট খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফি ৮ হাজার ৫০ টাকা। এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে এই ফি ১০ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। বাংলাদেশে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত এই কাঠামো অনুযায়ী এটিই সর্বোচ্চ ফি।

ই-পাসপোর্টের ডেলিভারি সময়ও সেবার ধরন অনুযায়ী আলাদা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী নিয়মিত ডেলিভারি বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিনের মধ্যে, এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিনের মধ্যে এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ২ কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি পোর্টালে আরও বলা হয়েছে, যেসব সরকারি কর্মচারীর প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা অবসরসংক্রান্ত নথি রয়েছে, তারা নিয়মিত ফি দিয়ে এক্সপ্রেস এবং এক্সপ্রেস ফি দিয়ে সুপার এক্সপ্রেস সুবিধা নিতে পারেন।

ই-পাসপোর্টের ফি পরিশোধের ক্ষেত্রেও বর্তমানে একাধিক সরকারি ও অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল পোর্টাল অনুযায়ী অনলাইনে এ-চালান, ডিজিপে এবং সূর্যপে ব্যবহার করে ফি দেওয়া যায়। এসব পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিভিন্ন কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এ-চালান ব্যবহার করে অফলাইনেও ফি পরিশোধ করা যায়।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ই-পাসপোর্টের ফি বাংলাদেশের ভেতরের ফি থেকে আলাদা। বাংলাদেশ মিশনের সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ১০০ মার্কিন ডলার এবং এক্সপ্রেস ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। একইভাবে ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে নিয়মিত ১২৫ এবং এক্সপ্রেস ১৭৫ মার্কিন ডলার দিতে হয়।

বিদেশে ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ আবেদনকারীর নিয়মিত ফি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং এক্সপ্রেস ফি ২০০ মার্কিন ডলার। ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত ১৭৫ এবং এক্সপ্রেস ২২৫ মার্কিন ডলার নির্ধারিত রয়েছে। ফলে বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও পৃষ্ঠা ও মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ফি পরিবর্তিত হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবার আলাদা ফি কাঠামো রয়েছে। সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে নিয়মিত ফি ৩০ মার্কিন ডলার এবং এক্সপ্রেস ফি ৪৫ মার্কিন ডলার। ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে এই দুই ফি যথাক্রমে ৫০ ও ৭৫ মার্কিন ডলার। তবে ৬৪ পৃষ্ঠার ক্ষেত্রে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত ফি সাধারণ আবেদনকারীদের কাঠামোর সঙ্গে মিল রয়েছে—৫ বছর মেয়াদে ১৫০ ও ২০০ এবং ১০ বছর মেয়াদে ১৭৫ ও ২২৫ মার্কিন ডলার। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

ই-পাসপোর্টের আবেদন করার আগে তাই শুধু ফি কত, সেটি জানলেই হবে না। প্রথমে ঠিক করতে হবে ৪৮ নাকি ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট প্রয়োজন। এরপর ৫ বছর না ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট নেওয়া হবে, সেটি নির্বাচন করতে হবে। সবশেষে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত, এক্সপ্রেস অথবা সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি বেছে নিতে হবে। এই তিনটি বিষয় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মোট ফিও পরিবর্তিত হবে। সরকারি ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমেও পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন আলাদাভাবে নির্বাচন করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি বাংলাদেশ থেকে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট নেন এবং দ্রুত ডেলিভারির প্রয়োজন না থাকে, তাহলে তাঁর সরকারি ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা। অন্যদিকে একই ব্যক্তির যদি ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট প্রয়োজন হয়, তাহলে নিয়মিত ফি হবে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। আবার ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট নিয়ে সুপার এক্সপ্রেস সেবা চাইলে খরচ হবে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ নিজের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারি নির্বাচন করলেই অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সম্ভব।

পাসপোর্টের ফি পরিশোধের আগে আবেদনকারীদের সর্বশেষ সরকারি তথ্য দেখে নেওয়া উচিত। কারণ সরকারি ফি, পেমেন্ট ব্যবস্থা কিংবা ডেলিভারি সংক্রান্ত নিয়ম ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল পোর্টালের ‘Passport Fees and Payment Options’ পাতায় ফি ও অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি প্রকাশ করা হয়েছে এবং ওই পেজটি ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে।

পাসপোর্টের আবেদন বা ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করা নিরাপদ। আবেদনকারী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্টের পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারি সেবা নির্বাচন করে সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page