ফুলবাড়ীতে ১২ কেজি ৫৬০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতার

প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ফুলবাড়ীতে ১২ কেজি ৫৬০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতার

ফুলবাড়ীতে ১২ কেজি ৫৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ কেজি ৫৬০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় বগুড়া জেলার দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে ফুলবাড়ী উপজেলার সোনাইকাজী গ্রামের ধরলা সেতুর পশ্চিম পাশে স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল চেকপোস্টে থামিয়ে তল্লাশি করা হলে এর দুই পাশে থাকা ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলটির পেছনের ডান পাশে ঝুলানো নেভি-ব্লু রঙের একটি ট্রাভেল ব্যাগে তিনটি পোটলা ছিল। সেখান থেকে মোট ৬ দশমিক ৪১ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একইভাবে মোটরসাইকেলের বাম পাশে ঝুলানো গোলাপি রঙের আরেকটি ট্রাভেল ব্যাগে থাকা তিনটি পোটলা থেকে আরও ৬ দশমিক ১৫ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। দুই ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা গাঁজার মোট পরিমাণ ১২ কেজি ৫৬০ গ্রাম বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে গ্রেপ্তার দুজন হলেন বগুড়া জেলার কালসি মাটি দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. বাবুল আহম্মেদ, বয়স ৩২ বছর এবং মো. মোকছেদুল মন্ডল, বয়স ৩৩ বছর। পুলিশ তাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সুজুকি জিক্সার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলটিও জব্দ করেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় চেকপোস্টে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মোটরসাইকেলটি তল্লাশির আওতায় আসে। পরে মোটরসাইকেলের দুই পাশে ঝোলানো ব্যাগে থাকা পোটলাগুলোতে সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেয়ে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা ও গণনা শেষে সেখানে বিপুল পরিমাণ শুকনা গাঁজা পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা গাঁজার পরিমাণ ১২ কেজি ৫৬০ গ্রাম। ঘটনাস্থল থেকে মাদকদ্রব্য পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামত আইন অনুযায়ী জব্দ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার পর তাদের আদালতে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, সীমান্তবর্তী ও যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাদক পরিবহন ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে আন্তঃজেলা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। এ ধরনের তল্লাশির মাধ্যমে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও মাদকদ্রব্য জব্দ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফুলবাড়ীর এই ঘটনায়ও চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশির সময় মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাদকদ্রব্যের সঙ্গে কীভাবে জড়িত এবং এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বা কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের পর এসব বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুলিশের অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা মানেই আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হলে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে পুলিশি দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমান্তবর্তী ও আঞ্চলিক যোগাযোগপথে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিলে মাদক পরিবহন ও পাচার প্রতিরোধে তা সহায়ক হতে পারে।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদক ও জব্দ করা মোটরসাইকেলসহ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের উৎস, পরিবহন এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page