এনআইডির তথ্য বদলানোর আগে সতর্ক হোন, নতুন বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন
খুচরা ব্যবসায়ীদের স্বস্তি, প্রত্যাহার হচ্ছে নতুন করের প্রস্তাব
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কিংবা তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে ভুল বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি বলছে, এনআইডি-সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা শুধু অনৈতিকই নয়, এটি একটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধও। তাই নাগরিকদের আইন মেনে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক বার্তায় জানানো হয়, ভুল তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন বা তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
বর্তমানে ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট তৈরি, জমি নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) গ্রহণ, সরকারি বিভিন্ন ভাতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্বাচনসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সেবায় এনআইডি ব্যবহার করা হয়। ফলে একজন নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিচয়পত্রের নির্ভুল তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে এনআইডি সংগ্রহ করেন বা বিদ্যমান তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, তাহলে তা ভবিষ্যতে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই জটিলতা তৈরি করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় কিছু ব্যক্তি নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার পরিচয়, ঠিকানা কিংবা অন্যান্য তথ্য পরিবর্তনের জন্য ভুয়া কাগজপত্র জমা দেন। আবার কেউ কেউ জাল জন্মনিবন্ধন বা অন্যান্য নথি ব্যবহার করে নতুন এনআইডি নিবন্ধনের চেষ্টা করেন। এসব কার্যক্রম আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
ইসি জানিয়েছে, বর্তমানে এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। আবেদনকারীর তথ্য জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষা সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য সরকারি ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। ফলে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করলে তা সহজেই শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, কারও এনআইডিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভুল থাকলে নির্ধারিত নিয়মে প্রয়োজনীয় ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দাখিল করে তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই ভুয়া তথ্য, জাল সনদ বা মিথ্যা নথি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এ ধরনের তথ্য প্রমাণিত হলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনি জবাবদিহিতার মুখোমুখিও হতে হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এনআইডি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি নাগরিকের পরিচয়, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই এর তথ্য সঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই এনআইডি নিবন্ধন, সংশোধন কিংবা পুনঃইস্যুর আবেদন করার সময় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
সচেতনতামূলক এই বার্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন দেশের সব নাগরিককে আইন মেনে সঠিক তথ্য ব্যবহার করে এনআইডি-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডি নিবন্ধন বা তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে, যাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন থাকে।
আরও পড়ুন- ভোটার আইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক হতে পারে, বড় পরিবর্তনের ভাবনায় ইসি
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
