হামে নতুন করে ১০৭ শনাক্ত, উপসর্গে আরও ২ শিশুর প্রাণহানি

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
হামে নতুন করে ১০৭ শনাক্ত, উপসর্গে আরও ২ শিশুর প্রাণহানি

হামের উপসর্গে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জনের এবং সন্দেহজনক হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৮৭২ জন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে সন্দেহজনক হাম রোগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৮ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে নতুন করে ১০৭ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ রয়েছে—এমন ৮৭২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে হামের সংক্রমণ ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৮৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৮৫ জনে।

বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও ঢাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। নিশ্চিত হামে ঢাকায় ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মারা গেছেন।

অন্যদিকে, সন্দেহজনক হাম রোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে ১২৫, রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭২, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৬, খুলনায় ৩২ এবং রংপুরে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা নেওয়া হাম প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

হামের উপসর্গ থাকা শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খেতে বা পান করতে না পারা কিংবা অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page