স্বাস্থ্য নয়, এসডিজি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে সব মন্ত্রণালয়কে

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য নয়, এসডিজি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে সব মন্ত্রণালয়কে

এসডিজি অর্জনে শুধু চিকিৎসা নয়, রোগ প্রতিরোধ ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পানি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা সম্পর্কিত জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসডিজির তৃতীয় লক্ষ্য বা গোল-৩ অর্জনের জন্য শুধু অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার দিকে মনোযোগ দিলে হবে না। রোগ যাতে না হয়, সে জন্য আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রোগ প্রতিরোধকে স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এসডিজি অর্জনের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি শিক্ষা, পানি, আইনশৃঙ্খলা, সমাজকল্যাণ ও জেন্ডার বৈষম্য কমানোর মতো বিষয়ও সরাসরি যুক্ত। তাই একটি মন্ত্রণালয়ের একক উদ্যোগে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে পড়ছে। কোথাও কোথাও মানুষ বাধ্য হয়ে দূষিত বা হলুদাভ পানি ব্যবহার করছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরেছেন বলে জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ভাষ্য, গত মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানির সমস্যা তুলে ধরেছেন এবং সেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতাও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের জীবনযাপনে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকার কারণে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শারীরিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে জাঙ্ক ফুড ও ফাস্টফুডের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শিশুদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যখাতকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে এসডিজির লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হবে। বরং জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এসডিজির গোল-৩-এর মূল লক্ষ্য হলো সবার জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ পানি, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page