মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমেছে ৪১ শতাংশ

প্রকাশিত: 08-06-2026 1:15 AM

করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন সংকটে পড়েছে দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিদেশে কর্মী পাঠানো উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। একই সঙ্গে অনেক বাংলাদেশি কর্মী কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। এতে শ্রমবাজারের পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৬ জন বাংলাদেশি। অথচ গত বছরের একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪১ শতাংশ কমেছে।

আরও পড়ুন- ওয়ান ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে ১৫ জুন পর্যন্ত

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মীর চাহিদা কমতে শুরু করে। অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যটন, সেবা ও বাণিজ্য খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নেয়। ফলে শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদনও কমে যায়।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কর্মীদের বিদেশযাত্রাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগে যেখানে বিমানভাড়া ছিল ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে, বর্তমানে অনেক রুটে তা বেড়ে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বেশি হয়েছে।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এখনো সৌদি আরব। ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর মধ্যে প্রায় সাত লাখ ৫২ হাজার গেছেন দেশটিতে। একই সময়ে কাতারে গেছেন এক লাখ ৬৯ হাজার এবং কুয়েতে গেছেন ৪২ হাজার ৪৯৬ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ জুন পর্যন্ত বিদেশে গেছেন তিন লাখ ১৪ হাজার ৩৬২ জন কর্মী। এর মধ্যে সৌদি আরবে এক লাখ ৯০ হাজার ৭২ জন, কাতারে ২৩ হাজার ৭৮০ জন, কুয়েতে আট হাজার ৭৫৩ জন, জর্দানে সাত হাজার ৩৫৩ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাত হাজার ১২১ জন কর্মী গেছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সেক্রেটারি মাজহারুল ভূইয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব ও কুয়েতমুখী শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভিসা প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে এবং বিমানভাড়াও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় এ ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। তারা বিকল্প শ্রমবাজার তৈরির পাশাপাশি দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এদিকে সংঘাতের কারণে ইরান ও বাহরাইন থেকে বেশ কিছু বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরেছেন। সরকারি হিসাবে চলতি বছর এ পর্যন্ত ইরান থেকে ২০১ জন এবং বাহরাইন থেকে ২৮২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখতে নতুন বাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুন- ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে অনিশ্চয়তা, আটকে আছে ৯ম গণবিজ্ঞপ্তি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, শিক্ষা, চাকরি,ইসলামিক,দ্রব্যমূল্য, বাজার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now