আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে বড় চমক, দাম কত হবে
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে আসছে নতুন চিপ, এআই ও উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি।
প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন অ্যাপলের নতুন স্মার্টফোন সিরিজ আইফোন ১৮। বাজারে আসার আগেই ফোনটি নিয়ে একের পর এক তথ্য ফাঁস হচ্ছে। নকশা, প্রসেসর, ক্যামেরা প্রযুক্তি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য দাম—সবকিছু নিয়েই চলছে আলোচনা।
ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে যাচ্ছে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি স্মার্টফোনগুলোর একটি। এতে যুক্ত হতে পারে বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপ, বড় র্যাম, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুবিধা এবং স্মার্টফোন ক্যামেরায় নতুন প্রযুক্তি।
প্রায় ২ লাখ টাকা হতে পারে দাম
প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম আগের মডেলগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
চীনের প্রযুক্তি তথ্য ফাঁসকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট পিকাচু’র তথ্য অনুযায়ী, চীনের বাজারে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু হতে পারে প্রায় ১১ হাজার ইউয়ান থেকে। যা ডলারে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলারের সমান।
বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও ফোনটির দাম প্রায় ২ লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রযুক্তির চিপ, বেশি ক্ষমতার র্যাম এবং উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থার কারণে দাম বাড়ছে। অ্যাপল এবার প্রো ম্যাক্স মডেলকে সাধারণ স্মার্টফোনের পরিবর্তে একটি শক্তিশালী মোবাইল ওয়ার্কস্টেশন হিসেবে তৈরি করছে।
থাকছে বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার চিপ
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে নতুন এ২০ প্রো চিপসেট।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি এই চিপ তৈরি করছে। এটি হবে বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি স্মার্টফোন চিপ।
চিপের আকার যত ছোট হয়, একই জায়গায় তত বেশি ট্রানজিস্টর যুক্ত করা সম্ভব হয়। ফলে ফোনের গতি বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে।
নতুন চিপে অ্যাপল প্রথমবারের মতো গেট-অল-অ্যারাউন্ড (GAA) ন্যানোশিট প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে কর্মক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যাটারির কার্যকারিতাও উন্নত হবে।
প্রথমবার ১২ জিবি র্যাম
অ্যাপল সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তুলনায় কম র্যাম ব্যবহার করে। তবে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে সেই ধারা পরিবর্তন হতে পারে।
প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেলে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র্যাম যুক্ত করা হচ্ছে।
এই বাড়তি র্যামের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অন-ডিভাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালনা করা। অ্যাপলের নতুন এআই সিস্টেম ব্যবহারকারীর ফোনেই বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
এর ফলে ছবি বিশ্লেষণ, তথ্য খোঁজা, ভয়েস কমান্ড এবং অন্যান্য স্মার্ট ফিচার আরও দ্রুত কাজ করবে।
ক্যামেরায় আসছে ডিএসএলআরের প্রযুক্তি
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের ক্যামেরায় বড় পরিবর্তনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
অ্যাপল বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটির প্রধান ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত হতে পারে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি।
বর্তমান স্মার্টফোন ক্যামেরার লেন্সের মুখ সাধারণত নির্দিষ্ট আকারের থাকে। তবে নতুন প্রযুক্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী লেন্সের মুখ ছোট-বড় করা যাবে।
এর ফলে কম আলোতে ভালো ছবি তোলা, উন্নত ভিডিও ধারণ এবং প্রাকৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার তৈরি করা সহজ হবে।
এ ছাড়া আলট্রা ওয়াইড ও টেলিফটো ক্যামেরাতেও উন্নতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ছোট হচ্ছে ডায়নামিক আইল্যান্ড
আইফোন ব্যবহারকারীদের পরিচিত ডায়নামিক আইল্যান্ডেও পরিবর্তন আসতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ডায়নামিক আইল্যান্ডের আকার প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট হতে পারে।
ফেস আইডির কিছু সেন্সর ডিসপ্লের নিচে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে স্ক্রিনের ওপরের কাটআউট ছোট করা হবে।
এতে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি জায়গাজুড়ে ডিসপ্লে ব্যবহার করতে পারবেন।
বড় ব্যাটারি ও দ্রুত চার্জিং
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনটিতে প্রায় ৫ হাজার ৫৬৭ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে।
এতে থাকতে পারে স্ট্যাকড ব্যাটারি প্রযুক্তি, যা কম জায়গায় বেশি শক্তি সংরক্ষণ করতে সাহায্য করবে।
এ ছাড়া ৪০ ওয়াট পর্যন্ত তারযুক্ত চার্জিং এবং ২০ ওয়াট পর্যন্ত ম্যাগসেফ চার্জিং সুবিধা যুক্ত হতে পারে।
কবে বাজারে আসবে আইফোন ১৮?
অ্যাপলের আগের উন্মোচন সূচি বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচন করা হবে।
সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বিশেষ অনুষ্ঠানে ফোনটির ঘোষণা আসতে পারে।
এরপর ১১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রি-অর্ডার এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বব্যাপী বিক্রি শুরু হতে পারে।
তবে অ্যাপলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইফোন ১৮ নিয়ে এত আগ্রহ কেন?
আইফোন ১৮ শুধু নতুন একটি স্মার্টফোন নয়, বরং অ্যাপলের এআই যুগের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২ ন্যানোমিটার চিপ, উন্নত ক্যামেরা, শক্তিশালী এআই সুবিধা এবং নতুন ডিজাইনের কারণে ফোনটি বাজারে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
তবে প্রায় ২ লাখ টাকার সম্ভাব্য দাম সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
