Vivo X500 Pro Max ক্যামেরায় নতুন অভিজ্ঞতা দিতে যে পরিবর্তনগুলো এনেছে
Vivo X500 Pro Max স্মার্টফোনের বড় Zeiss ক্যামেরা মডিউল
শাংহাইয়ে উন্মোচনের পর Vivo X500 সিরিজ হাতে নিয়ে ব্যবহারের সুযোগ মিলেছে। নতুন সিরিজের ফ্ল্যাগশিপ X500 Pro Max-এ সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে এর ক্যামেরা ব্যবস্থা। ফোনটির নকশায় আগের X সিরিজের ধারাবাহিকতা থাকলেও ক্যামেরা প্রযুক্তি, বিশেষ করে টেলিফটো ক্যামেরায় বড় ধরনের গুরুত্ব দিয়েছে Vivo।
প্রথম দেখায় Vivo X500 Pro Max-কে আগের প্রজন্মের ফোন থেকে খুব আলাদা মনে নাও হতে পারে। বড় গোলাকার ক্যামেরা মডিউল, তুলনামূলক সমতল পাশ এবং সাদামাটা পেছনের নকশা Vivo-এর সাম্প্রতিক X সিরিজের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। বিশেষ করে ক্যামেরাকেন্দ্রিক আগের ফ্ল্যাগশিপগুলোর পাশে রাখলে নতুন ফোনটির নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়ে না।
তবে ফোনটি কিছুক্ষণ ব্যবহার করলে বোঝা যায়, এবার ডিজাইনের পরিবর্তনের চেয়ে ক্যামেরা অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে Vivo। শাংহাইয়ে ব্যবহারের সময় বিশেষ করে টেলিফটো ক্যামেরা ও ভিডিও সক্ষমতায় সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
X500 Pro Max আকারের দিক থেকেও বড় একটি স্মার্টফোন। এতে রয়েছে ৬.৮৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফলে হাতে নিলে ফোনটির আকার সহজেই বোঝা যায়। এর সঙ্গে পেছনের বিশাল গোলাকার ক্যামেরা মডিউল যুক্ত হওয়ায় ফোনটির পেছনের অংশে ক্যামেরাই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
Vivo অবশ্য পুরোপুরি নতুন ডিজাইন না এনে আগের নকশাকেই আরও পরিমার্জন করেছে। পেছনের গ্লাস ক্যামেরা মডিউলের দিকে সামান্য উঁচু হয়ে উঠেছে। এতে ফোনের মূল বডি এবং ক্যামেরা অংশের মধ্যে সংযোগটি তুলনামূলক মসৃণ মনে হয়। অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় ফ্রেম ফোনটিকে দৃঢ়তা দিয়েছে এবং হাতে নেওয়ার পর প্রিমিয়াম অনুভূতিও পাওয়া যায়।
রঙ ও সংস্করণ অনুযায়ী পেছনে AG গ্লাস অথবা গ্লাস-ফাইবার রিইনফোর্সড উপাদান ব্যবহার করেছে Vivo। ফোনটিতে IP68 এবং IP69 সুরক্ষাও রয়েছে। অর্থাৎ পানি ও ধুলার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাগশিপ পর্যায়ের সুরক্ষা দেওয়ার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে X500 Pro Max-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এর ক্যামেরা ব্যবস্থা। ক্যামেরা মডিউলের ওপর Zeiss-এর ব্র্যান্ডিংও সেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে। Vivo ও জার্মান অপটিকস প্রতিষ্ঠান Zeiss-এর অংশীদারত্ব অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালে X60 সিরিজের সময় থেকে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে।
এই সহযোগিতা শুধু Zeiss-এর নাম ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অপটিক্যাল সিস্টেম, ইমেজিং স্ট্যান্ডার্ড, লেন্স কোটিং, রঙের পুনরুৎপাদন এবং কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফির মতো বিভিন্ন বিষয়েও দুই প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে।
X500 Pro Max-এ সেই সহযোগিতার প্রভাব ডিসপ্লেতেও দেখা যায়। ফোনটির ৬.৮৫ ইঞ্চি স্ক্রিনকে Zeiss Master Color Display হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। Vivo ও Zeiss মিলে ডিসপ্লের রঙের ক্যালিব্রেশনে কাজ করেছে। ক্যামেরায় ধারণ করা ছবির রঙ যতটা সম্ভব সঠিকভাবে দেখানোর জন্য ডিসপ্লের রঙের নির্ভুলতাকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্যামেরাগুলোতে রয়েছে Zeiss T* কোটিং। এর উদ্দেশ্য হলো আলো প্রবেশের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিফলন, ফ্লেয়ার ও ঘোস্টিংয়ের মতো সমস্যাগুলো কমানো। আগের X সিরিজের মতো এখানেও Zeiss-ভিত্তিক বিভিন্ন পোর্ট্রেট স্টাইল রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট ধরনের লেন্সের বোকেহ বৈশিষ্ট্যকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনুকরণ করা হয়।
তবে X500 Pro Max ব্যবহারের সময় সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে টেলিফটো ক্যামেরা। ফোনটির পেছনে তিনটি ক্যামেরা থাকলেও ২০০ মেগাপিক্সেলের Zeiss টেলিফটো ক্যামেরাটি আলাদা করে নজর কেড়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১/১.৪ ইঞ্চির বড় সেন্সর এবং ৮৫ মিমি সমতুল্য ফোকাল লেন্থের লেন্স।
এই কনফিগারেশন মূল ক্যামেরার তুলনায় প্রায় ৩.৫ গুণ অপটিক্যাল ম্যাগনিফিকেশন দেওয়ার জন্য তৈরি। পাশাপাশি টেলিফটো ক্যামেরায় অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা OIS রয়েছে। ফলে দূরের কোনো বিষয়কে কাছাকাছি এনে ছবি তোলার পাশাপাশি হাত কাঁপার প্রভাব কমাতেও এটি সহায়তা করতে পারে।
৮৫ মিমি সমতুল্য ফোকাল লেন্থ পোর্ট্রেট ও দূরের বিষয় ধারণের জন্য বেশ কার্যকর একটি পরিসর। বিশেষ করে মানুষের ছবি তোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশস্ত লেন্সের তুলনায় মুখের গঠন তুলনামূলক স্বাভাবিক রাখার সুবিধা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দূরের বিষয়কে ফ্রেমে আনার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর।
Vivo X500 Pro Max-এর সঙ্গে ঐচ্ছিক Zeiss এক্সটেন্ডার ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি শুধু স্মার্টফোনের প্রচলিত ক্যামেরা অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে টেলিফটো ফটোগ্রাফিকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছে।
সব মিলিয়ে X500 Pro Max-এর ক্ষেত্রে Vivo সম্পূর্ণ নতুন কোনো ডিজাইন ভাষা তৈরির পথে হাঁটেনি। বরং আগের X সিরিজের পরিচিত নকশাকে ধরে রেখে ক্যামেরা প্রযুক্তির জায়গায় উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বড় সেন্সরের ২০০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো ক্যামেরা, Zeiss-এর সঙ্গে যৌথ প্রযুক্তি, উন্নত কোটিং এবং বড় ডিসপ্লে মিলিয়ে ফোনটি মূলত ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চাইছে।
তবে বাংলাদেশে ফোনটির সম্ভাব্য দাম, আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ এবং অন্যান্য স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলো আলাদাভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
