বেদে শিক্ষা উপবৃত্তির অনলাইন আবেদন, যোগ্যতা ও টাকার পরিমাণ জানুন

প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
বেদে শিক্ষা উপবৃত্তির অনলাইন আবেদন, যোগ্যতা ও টাকার পরিমাণ জানুন

বেদে শিক্ষা উপবৃত্তি অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

৩১২

বেদে সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় শিক্ষা উপবৃত্তি দেওয়া হয়। এটি সরকারের ‘বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’র একটি অংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্কুলগামী বেদে শিক্ষার্থীদের চারটি শিক্ষাস্তরে ভাগ করে মাসিক উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাসে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ টাকা হারে উপবৃত্তির কথা সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যপৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বেদে জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্যও রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যেও বেদে জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু থাকার বিষয়টি দেখা যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা উপবৃত্তি সুবিধাভোগীর তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

অনলাইনে আবেদন নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়সীমা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর বেদেসহ বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন অনলাইনে নেওয়া শুরু করেছিল। প্রথমে ১৩ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন নেওয়ার কথা জানানো হয়। পরে আবেদন করার সময় বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ করা হয়েছিল। ফলে ওই অর্থবছরের আবেদন এখন আর নতুন করে জমা দেওয়া যাবে না।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্যও একই কর্মসূচির আওতায় বেদে জনগোষ্ঠীর ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদন অনলাইনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কার্যক্রমসংক্রান্ত নির্দেশনায় বেদে, হিজড়া, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা-শ্রমিকদের ভাতা এবং শিক্ষা উপবৃত্তির কথা রয়েছে। আবেদন করার নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে dss.bhata.gov.bd/online-application উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই কেউ যদি এখন বেদে শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে চান, প্রথমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি অনলাইন আবেদন পোর্টালে গিয়ে চলমান আবেদন উইন্ডো আছে কি না দেখতে হবে। আবেদন খোলা থাকলে সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। আবেদন বন্ধ থাকলে নতুন করে ফরম জমা দেওয়া সম্ভব হবে না; পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আবেদনের সময় শিক্ষার্থীর পরিচয় ও শিক্ষাগত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন ও অভিভাবকের তথ্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে কোন নথি কোন বছর বাধ্যতামূলক হবে, তা সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি আবেদন নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই পুরোনো কোনো ওয়েবসাইটের তালিকা দেখে কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরিবর্তে আবেদন ফরমে চাওয়া তথ্য ও সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর ও আর্থিক হিসাবের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনলাইন আবেদনসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনায় উপকারভোগীর নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত সক্রিয় সিম এবং G2P পদ্ধতিতে অর্থ পাওয়ার জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মতারিখ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য, শ্রেণি বা শিক্ষার স্তর এবং অভিভাবকের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ভুল তথ্য দিলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় আবেদন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে। একইভাবে অন্য কারও মোবাইল নম্বর বা আর্থিক হিসাব ব্যবহার না করে সরকারি নির্দেশনায় যেভাবে তথ্য চাওয়া হয়, সেভাবেই তথ্য দেওয়া উচিত।

বেদে শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বেদে জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। একটি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নাগরিক সেবা তথ্যে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের চারটি শিক্ষাস্তরে উপবৃত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত নির্বাচন বরাদ্দ, যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্ট বছরের নীতিমালা অনুযায়ী হয়।

এই উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য G2P বা Government to Person পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ নির্বাচিত হলে সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত আর্থিক হিসাবে উপবৃত্তি পাঠানোর ব্যবস্থা থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেদে শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আবেদন করার নামে কোনো দালালকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি অনলাইন আবেদন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আবেদন করতে হবে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা অন্য কোনো সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফরম পূরণ করলেও নিজের NID, জন্মনিবন্ধন, OTP, ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গোপন তথ্য অন্য কারও কাছে অযথা দেওয়া উচিত নয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বেদে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির আলাদা আবেদন ফরমের তথ্যও রয়েছে। অর্থাৎ কর্মসূচিটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কাঠামোর অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

সব মিলিয়ে, বেদে শিক্ষা উপবৃত্তি বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে চলমান একটি সরকারি শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আবেদন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্যও বেদে জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তির অনলাইন আবেদন কার্যক্রম রাখা হয়েছে। তাই নতুন আবেদন করতে চাইলে সর্বশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে dss.bhata.gov.bd/online-application পোর্টালে আবেদন করতে হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page