দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের চাহিদা বাড়ার মধ্যেই বাজারে এসেছে নতুন ইলেকট্রিক ‘Mini Cargo Van’। আকিজ মোটরসের এই বৈদ্যুতিক কার্গো ভ্যানটি ব্যবসায়ী, ডেলিভারি সার্ভিস ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কম খরচে পণ্য পরিবহনের নতুন সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। শক্তিশালী মোটর, দীর্ঘ রেঞ্জ এবং বেশি ওজন বহনের সক্ষমতার কারণে ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক পরিবহন খাতে আগ্রহ তৈরি করেছে মডেলটি।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে আসছে ২৫০ কিলোমিটার রেঞ্জের ইলেকট্রিক বাইক দুর্বার
বর্তমানে দেশের বাজারে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত অধিকাংশ ছোট যানবাহন ডিজেল বা পেট্রোলচালিত হওয়ায় দৈনিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ডেলিভারি সার্ভিস ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য জ্বালানি ব্যয় বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এমন সময় বিদ্যুৎচালিত মিনি কার্গো ভ্যান বাজারে আসায় কম খরচে পরিবহন সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আকিজ মোটরসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই Mini Cargo Van-এ ১৫০০ থেকে ২০০০ ওয়াট পর্যন্ত শক্তিশালী মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে VRLA এবং Lithium—দুই ধরনের ব্যাটারি অপশন রাখা হয়েছে। ব্যাটারির সক্ষমতা অনুযায়ী একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৪০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে ভ্যানটি। ফলে শহরের ভেতরে নিয়মিত পণ্য পরিবহন বা ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনায় এটি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যানটিতে ৬০/৭২ ভোল্টের ৫৮ থেকে ২০০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগবে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। সাধারণ AC 110-220V বিদ্যুৎ সংযোগ থেকেই সহজে চার্জ দেওয়া যাবে, ফলে আলাদা কোনো জটিল চার্জিং স্টেশন প্রয়োজন হবে না।
লোড ক্যাপাসিটির দিক থেকেও মডেলটি বেশ শক্তিশালী। এতে সর্বোচ্চ ৭০০ থেকে ১০০০ কেজি পর্যন্ত পণ্য বহনের সুবিধা রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পাইকারি বাজার, কুরিয়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় পরিবহন কাজে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। যদিও এটি উচ্চগতির যান নয়, তবে শহরের ভেতরে স্বল্প দূরত্বে পণ্য পরিবহনের জন্য এই গতি যথেষ্ট বলেই মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ব্যস্ত নগরীতে কম গতির কিন্তু কম খরচের যানবাহনের চাহিদা বর্তমানে বাড়ছে।
নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাতেও কিছু আধুনিক ফিচার রাখা হয়েছে। এতে হাইড্রোলিক ব্রেক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভারী মালামাল বহনের সময়ও কার্যকর ব্রেকিং নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে চেইন স্প্রকেট না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ খরচও তুলনামূলক কম হবে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিক থেকেও এই মিনি কার্গো ভ্যানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ এতে কোনো ধরনের জ্বালানি ব্যবহার হয় না এবং ধোঁয়া বা শব্দ দূষণও তৈরি হয় না। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ই-কমার্স ও হোম ডেলিভারি সেবার বিস্তার ঘটায় ছোট কার্গো যানবাহনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কম খরচে পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। সেই জায়গা থেকে ইলেকট্রিক কার্গো ভ্যান ভবিষ্যতে বড় বাজার তৈরি করতে পারে।
ওয়ারেন্টির বিষয়েও কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে ব্যাটারি, মোটর এবং কন্ট্রোলারের জন্য ৬ মাসের ওয়ারেন্টি দিচ্ছে আকিজ মোটরস। যদিও ব্যবহারকারীদের মতে, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং চার্জিং সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে এই ধরনের যানবাহনের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়বে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক বাইক, রিকশা ও ছোট যানবাহনের ব্যবহার বাড়লেও বাণিজ্যিক কার্গো খাতে ইলেকট্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও সীমিত। তবে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা এখন বিকল্প সমাধানের দিকে নজর দিচ্ছেন। ফলে আগামী কয়েক বছরে ইলেকট্রিক কার্গো যানবাহনের বাজার আরও সম্প্রসারণ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকিজ মোটরস জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাটারি ও মোটর ভ্যারিয়েন্টে মিনি কার্গো ভ্যানটি পাওয়া যাবে। তবে আনুষ্ঠানিক মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিস্তারিত মূল্য জানতে আগ্রহীদের +৮৮ ০১৭৭৭-৭৭৩৪৫২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে কম খরচে পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং দীর্ঘ রেঞ্জের কারণে আকিজের নতুন Mini Cargo Van দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি পরিবহন সমাধান হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-এক চার্জে ৩৮০ কিমি! স্যামসাং ইলেকট্রিক সাইকেল










