দেশে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি আসছে বাজারে, জুলাইতেই বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
দেশে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি আসছে বাজারে, জুলাইতেই বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু

দেশে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি আসছে বাজারে

বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো দেশেই তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) আগামী জুলাই মাস থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি শুধু দেশের পরিবহন খাতেই নয়, বরং স্থানীয় শিল্প ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় একটি মাইলফলক হতে পারে।

আরও পড়ুন-বাংলাদেশে আসছে ২৫০ কিলোমিটার রেঞ্জের ইলেকট্রিক বাইক দুর্বার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো মূলত বাণিজ্যিক পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হবে। “Made in Bangladesh” ট্যাগযুক্ত এসব গাড়ি স্থানীয়ভাবেই সংযোজন ও উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পরিবহনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানিচালিত যানবাহনের পরিবর্তে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে, যাতে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদনের আলোচনা থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো দেশীয়ভাবে তৈরি গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসার খবর প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম পরিচালন খরচ। ডিজেল বা অকটেনের পরিবর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় জ্বালানি ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম হতে পারে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনভিত্তিক গাড়ির তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, দেশে তৈরি ইলেকট্রিক যানবাহন চালু হলে স্থানীয় শিল্প খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাটারি, চার্জিং প্রযুক্তি, মোটর এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এছাড়া পরিবেশগত দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ প্রচলিত জ্বালানিচালিত যানবাহন থেকে ব্যাপক পরিমাণে ধোঁয়া ও কার্বন নিঃসরণ হয়, যা বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে এই দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বৈদ্যুতিক গাড়ির সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে চার্জিং অবকাঠামোর ওপর। বর্তমানে দেশে ইভি চার্জিং স্টেশন এখনও খুব বেশি বিস্তৃত নয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ি বাজারজাত করার পাশাপাশি চার্জিং নেটওয়ার্কও দ্রুত সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুরুতে বাণিজ্যিক যানবাহন খাতে ইলেকট্রিক ট্রাক বা কার্গো যান ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সাধারণ যাত্রীবাহী ইভি বাজারও বড় হতে পারে। বিশেষ করে শহরভিত্তিক ডেলিভারি সার্ভিস ও লজিস্টিক সেক্টরে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন শুরু হলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপও কিছুটা কমতে পারে। কারণ বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় জ্বালানি তেল আমদানিতে। ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে সেই ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক গাড়ি বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অনেক দেশ এখন বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশেও সেই বৈশ্বিক প্রবণতার প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

তবে তারা আরও বলছেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি ইভির মান, ব্যাটারির স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ নতুন প্রযুক্তির গাড়ি নিয়ে গ্রাহকদের আস্থা তৈরি করতে এসব বিষয় বড় ভূমিকা রাখবে।

সবমিলিয়ে, জুলাই মাসে দেশে তৈরি প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়া বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে যাচ্ছে। এটি সফল হলে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন খাতে আরও বড় বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন-এক চার্জে ৩৮০ কিমি! স্যামসাং ইলেকট্রিক সাইকেল

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন