দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এবং নতুন ফোন কিনতে আগ্রহীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। স্থানীয়ভাবে তৈরি মোবাইল ফোনের উৎপাদন ব্যয় কমাতে একাধিক কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাখাতে কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়ায় ভবিষ্যতে কলরেট এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুনঃ- টেলিটক স্বাগতম প্যাকেজে ৬০ মিনিট, ৫ জিবি ডাটা ও কম কলরেট সুবিধা
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ধারাবাহিকতায় টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান—সবাই এর সুবিধা পাবে।
বাজেটের অন্যতম আলোচিত ঘোষণা হলো মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার নির্দিষ্ট কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব। দীর্ঘদিন ধরে নতুন সিম কেনার ক্ষেত্রে এই কর গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে সিম কার্ডের ওপর কেবল প্রযোজ্য ভ্যাট ও অন্যান্য স্বাভাবিক কর বহাল থাকবে। ফলে নতুন সিম কেনার খরচ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা কমবে, তবুও ডিজিটাল সেবা বিস্তারের স্বার্থে এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দেশে তৈরি মোবাইল ফোনের দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম করের হার ৫ শতাংশ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং কোম্পানিগুলো কম দামে ফোন বাজারজাত করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় কমলে মধ্যম ও নিম্নমূল্যের স্মার্টফোনের বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
শুধু মোবাইল ফোন নয়, কলরেট ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও কমতে পারে। কারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাখাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমবে, যা ভবিষ্যতে গ্রাহক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ার ও অন্যান্য চার্জের ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। টেলিকম খাতের অংশীজনরা বলছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে অপারেটরদের বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।
বাজেট বক্তব্যে সরকার দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ জনগণকে ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিত করা।
এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে লাখ লাখ নতুন ৪জি সংযোগ যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও জনসমাগমস্থলে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে প্রস্তাবিত কর ছাড় ও নীতিগত সহায়তা বাস্তবায়িত হলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকরাও কম দামে মোবাইল ফোন কেনা এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী টেলিকম সেবা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
সূত্র: জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭, অর্থ মন্ত্রণালয়
আরও পড়ুনঃ- মোবাইল সিম কিনতে আর লাগবে না ৩০০ টাকা কর?









