বর্তমান সময়ে বাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট ব্যবহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস হলো Wi-Fi রাউটার। একবার সংযোগ চালু করার পর অনেকেই মাসের পর মাস রাউটার বন্ধ করেন না। কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রাউটার রিস্টার্ট না করলে ধীরে ধীরে এর কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ- ওয়াই-ফাই ৮ রাউটার উন্মোচন করল TP-Link
ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়া, ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে সমস্যা কিংবা অনলাইন গেমে ল্যাগ দেখা দেওয়ার মতো সমস্যার পেছনে অনেক সময় দীর্ঘদিন রাউটার চালু থাকার বিষয়টিও দায়ী হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রাউটার রিস্টার্ট করা ভালো অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
কেন রাউটার রিস্টার্ট করা প্রয়োজন?
অনেকেই মনে করেন রাউটার শুধু ইন্টারনেট সরবরাহ করে। বাস্তবে এটি একটি ছোট কম্পিউটারের মতো কাজ করে। এর ভেতরে প্রসেসর, র্যাম, স্টোরেজ এবং নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম থাকে।
দীর্ঘ সময় চালু থাকলে রাউটারের মেমোরিতে অস্থায়ী ডেটা বা ক্যাশে জমতে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসও চলতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো রাউটারের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রিস্টার্ট করলে এসব অপ্রয়োজনীয় ডেটা মুছে যায় এবং রাউটার নতুন করে স্বাভাবিক অবস্থায় কাজ শুরু করতে পারে।
রিস্টার্ট করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
নিয়মিত রিস্টার্ট করার ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়।
- ইন্টারনেট সংযোগ আরও স্থিতিশীল হয়।
- Wi-Fi ধীরগতির সমস্যা কমতে পারে।
- নেটওয়ার্ক ল্যাগ কমে।
- রাউটারের অতিরিক্ত গরম হওয়ার প্রবণতা কমে।
- সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা কমতে পারে।
- কিছু ক্ষেত্রে নতুন IP Address পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষ করে যেসব বাড়িতে একসঙ্গে অনেক স্মার্টফোন, টিভি, ল্যাপটপ বা স্মার্ট হোম ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, সেখানে রিস্টার্ট আরও কার্যকর হতে পারে।
কতদিন পরপর রাউটার রিস্টার্ট করা উচিত?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মাসে অন্তত একবার রাউটার রিস্টার্ট করা ভালো।
তবে যদি আপনার বাসা বা অফিসে অনেক ব্যবহারকারী থাকেন কিংবা সারাদিন ভারী ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরপর রিস্টার্ট করা উপকারী হতে পারে।
আর যারা অনলাইন গেমিং, ভিডিও কনফারেন্সিং বা সার্বক্ষণিক স্ট্রিমিং করেন, তারা চাইলে সপ্তাহে একবার রিস্টার্ট করার অভ্যাসও গড়ে তুলতে পারেন।
কীভাবে রাউটার রিস্টার্ট করবেন?
রাউটার রিস্টার্ট করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পাওয়ার সংযোগ বন্ধ করা।
ধাপগুলো হলো:
১. রাউটারের পাওয়ার অ্যাডাপ্টার খুলে ফেলুন।
২. অন্তত ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট অপেক্ষা করুন।
৩. এই সময়ের মধ্যে রাউটারের অভ্যন্তরে থাকা অস্থায়ী বিদ্যুৎ সম্পূর্ণভাবে নিষ্কাশিত হবে।
৪. এরপর আবার পাওয়ার সংযোগ দিন।
৫. রাউটার চালু হওয়ার জন্য কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন।
এরপর ডিভাইসটি নতুন করে সংযোগ স্থাপন করবে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করবে।
অটো রিস্টার্ট সুবিধা ব্যবহার করবেন যেভাবে
বর্তমানের অনেক আধুনিক রাউটারে Auto Reboot বা Scheduled Restart সুবিধা থাকে।
রাউটারের মোবাইল অ্যাপ অথবা ওয়েব সেটিংসে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন করা যায়। এরপর রাউটার নিজেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রিস্টার্ট হবে।
এক্ষেত্রে গভীর রাতের সময় নির্বাচন করা সবচেয়ে ভালো। কারণ তখন সাধারণত ইন্টারনেট ব্যবহার কম থাকে এবং রিস্টার্ট হলেও কোনো কাজে বিঘ্ন ঘটে না।
কখন শুধু রিস্টার্ট করলেই হবে না?
যদি নিয়মিত রিস্টার্ট করার পরও সমস্যা থেকে যায়, তাহলে শুধু রিস্টার্ট যথেষ্ট নাও হতে পারে।
সেক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করা উচিত:
- রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট আছে কি না।
- রাউটার অতিরিক্ত পুরোনো কি না।
- ISP-এর সংযোগে সমস্যা আছে কি না।
- Wi-Fi চ্যানেল কনজেশন হচ্ছে কি না।
- রাউটারের অবস্থান উপযুক্ত কি না।
রাউটার রিস্টার্ট করা ছোট একটি কাজ হলেও এটি ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মাসে অন্তত একবার এবং বেশি ব্যবহার হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরপর রিস্টার্ট করলে অধিকাংশ সাধারণ নেটওয়ার্ক সমস্যা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি অটো রিস্টার্ট সুবিধা ব্যবহার করলে রাউটারের পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়।
সূত্র: নেটওয়ার্কিং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকা
আরও পড়ুনঃ- ফ্রি রাউটারসহ বাংলালিংক ওয়াইফাই অর্ডার করার নিয়ম, মাসিক খরচ ও প্ল্যান বিস্তারিত










