বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পাওয়া যায় না বা নতুন সংযোগ নিতে ঝামেলা হয়, তাদের জন্য তারবিহীন ইন্টারনেট একটি জনপ্রিয় বিকল্প হয়ে উঠেছে। এই চাহিদা বিবেচনায় বাংলালিংক নিয়ে এসেছে Banglalink WiFi সেবা, যা নির্দিষ্ট এলাকায় তার ছাড়াই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।
আরও পড়ুন-Banglalink WiFi প্যাকেজ ও রাউটার মূল্য ২০২৬(অর্ডার ও কভারেজ চেক)
বাংলালিংক ওয়াইফাইয়ের অন্যতম সুবিধা হলো, গ্রাহকরা ঘরে বসেই অনলাইনে সংযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত সময়ে বাংলালিংকের প্রতিনিধি সরাসরি গ্রাহকের ঠিকানায় গিয়ে সংযোগ প্রদান করে থাকেন।
অনেকেই জানতে চান বাংলালিংক ওয়াইফাই কীভাবে অর্ডার করতে হয়, মাসিক খরচ কত, ডিভাইসের দাম কত এবং ফ্রি রাউটার পাওয়ার সুযোগ আছে কি না। চলুন ধাপে ধাপে সব তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
এক নজরে বাংলালিংক ওয়াইফাই
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংযোগের ধরন | তারবিহীন WiFi |
| অর্ডার পদ্ধতি | অনলাইন |
| ডিভাইস মূল্য | ২০০০ টাকা ও ৪৩০০ টাকা |
| সর্বনিম্ন মাসিক প্ল্যান | ৪৯০ টাকা |
| স্মার্ট প্ল্যান | ১০০০ টাকা |
| আল্ট্রা প্ল্যান | ১৮০০ টাকা |
| ফ্রি ডিভাইস সুবিধা | ১২ মাসের অগ্রিম সাবস্ক্রিপশনে |
| সংযোগ সময় | সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যোগাযোগ |
বাংলালিংক ওয়াইফাই অর্ডার করার নিয়ম
বাংলালিংক ওয়াইফাই সংযোগ নেওয়ার জন্য এখন আর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে অনলাইনে আবেদন করা যায়। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সহজেই বাংলালিংক ওয়াইফাই অর্ডার করতে পারবেন।
ধাপ-১: বাংলালিংক ওয়াইফাই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে গুগলে বাংলালিংক ওয়াইফাই লিখে সার্চ করুন। এরপর বাংলালিংক ওয়াইফাইয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
ওয়েবসাইট: banglalinkwifi.banglalink.net
ধাপ-২: আপনার এলাকায় সংযোগ পাওয়া যায় কিনা যাচাই করুন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর মেনু থেকে Availability অপশনে ক্লিক করুন।
এরপর আপনার জেলা (District) এবং এলাকা (Area) নির্বাচন করুন। সিস্টেম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জানিয়ে দেবে আপনার এলাকায় বাংলালিংক ওয়াইফাই সেবা চালু আছে কিনা।
ধাপ-৩: Availability নিশ্চিত করুন
যদি আপনার এলাকায় সেবাটি চালু থাকে, তাহলে স্ক্রিনে Great News বার্তা দেখতে পাবেন।
এই বার্তাটি দেখানোর অর্থ হলো আপনার এলাকায় বাংলালিংক ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়া সম্ভব। এরপর নিচের Next অথবা Continue বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে যান।
ধাপ-৪: পছন্দের মাসিক প্ল্যান নির্বাচন করুন
এ পর্যায়ে বাংলালিংক ওয়াইফাইয়ের উপলব্ধ প্যাকেজগুলো দেখানো হবে।
আপনার ব্যবহার এবং বাজেট অনুযায়ী Smart Saving, Smart Plan অথবা Ultra Plan-এর মধ্যে যেকোনো একটি নির্বাচন করুন।
ধাপ-৫: ডিভাইস নির্বাচন করুন
এরপর আপনার জন্য উপলব্ধ ডিভাইসগুলো দেখানো হবে।
বর্তমানে বাংলালিংক ওয়াইফাইয়ের দুটি ডিভাইস রয়েছে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের ডিভাইস নির্বাচন করে পরবর্তী ধাপে যান।
ধাপ-৬: ব্যক্তিগত তথ্য ও সংযোগের ঠিকানা দিন
এই ধাপে আপনাকে নিচের তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে—
- পূর্ণ নাম
- মোবাইল নম্বর
- ইমেইল ঠিকানা
- সম্পূর্ণ ঠিকানা
- সংযোগ নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
ধাপ-৭: অর্ডার রিভিউ করুন
এখন আপনার নির্বাচিত প্ল্যান, ডিভাইস, সংযোগের ঠিকানা এবং মোট খরচসহ সম্পূর্ণ ইনভয়েস দেখানো হবে।
সব তথ্য ঠিক থাকলে Place Order বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ-৮: OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন
অর্ডার সাবমিট করার পর আপনার মোবাইল নম্বরে একটি OTP (One-Time Password) পাঠানো হবে।
ওই OTP নির্ধারিত ঘরে লিখে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ-৯: অর্ডার নিশ্চিত করুন
সর্বশেষ ধাপে পেমেন্ট অপশন নির্বাচন করুন।
আপনি চাইলে Cash on Delivery (COD) নির্বাচন করে অর্ডার কনফার্ম করতে পারবেন।
অর্ডার সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনার আবেদন বাংলালিংক ওয়াইফাই টিমের কাছে জমা হবে।
বাংলালিংক ওয়াইফাই অর্ডার করার পর কী হবে?
অর্ডার সফলভাবে সম্পন্ন হলে গ্রাহক ড্যাশবোর্ড থেকে অর্ডারের বর্তমান অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন।
সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাংলালিংকের একজন প্রতিনিধি ফোন করে অর্ডারটি নিশ্চিত করেন। এরপর নির্ধারিত তারিখে গ্রাহকের বাসা, অফিস অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সংযোগ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় অর্থ গ্রহণ করা হয়।
এ কারণে আবেদন করার সময় সঠিক মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলালিংক ওয়াইফাইয়ের মাসিক খরচ কত?
বর্তমানে বাংলালিংক ওয়াইফাইয়ের কয়েকটি জনপ্রিয় মাসিক প্ল্যান রয়েছে।
| প্ল্যান | মাসিক খরচ |
|---|---|
| Smart Saving | ৪৯০ টাকা |
| Smart Plan | ১০০০ টাকা |
| Ultra Plan | ১৮০০ টাকা |
গ্রাহকরা নিজেদের ইন্টারনেট ব্যবহারের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো প্ল্যান নির্বাচন করতে পারেন।
কম খরচে ব্যবহারকারীদের জন্য Smart Saving প্ল্যান উপযোগী হলেও নিয়মিত ব্যবহারকারীদের জন্য Smart Plan এবং বেশি ব্যবহারকারীদের জন্য Ultra Plan সুবিধাজনক হতে পারে।
বাংলালিংক ওয়াইফাই ডিভাইসের দাম কত?
সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহককে একটি ডিভাইস কিনতে হয়। বর্তমানে বাংলালিংক দুটি ধরনের ডিভাইস অফার করছে।
| ডিভাইস | মূল্য |
|---|---|
| WiFi Device | ২০০০ টাকা |
| Premium Device | ৪৩০০ টাকা |
এই অর্থ এককালীন পরিশোধ করতে হয় এবং পরবর্তীতে শুধুমাত্র মাসিক প্যাকেজ চার্জ পরিশোধ করলেই সংযোগ চালু রাখা যায়।
বাংলালিংক ওয়াইফাই ফ্রি রাউটার পাওয়ার নিয়ম
বাংলালিংক ওয়াইফাই ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধাও রয়েছে।
যদি কোনো গ্রাহক যেকোনো মাসিক প্ল্যানের ১২ মাসের সাবস্ক্রিপশন একসঙ্গে পরিশোধ করেন, তাহলে বাংলালিংক একটি WiFi ডিভাইস বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে।
দীর্ঘমেয়াদে সংযোগ ব্যবহার করতে চাইলে এই সুবিধাটি বেশ সাশ্রয়ী হতে পারে।
সরাসরি যোগাযোগের ঠিকানা
বাংলালিংক ওয়াইফাই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে অথবা সরাসরি যোগাযোগ করতে চাইলে নিচের তথ্য ব্যবহার করতে পারেন।
ঠিকানা:
Tigers’ Den, House 4 (SW), Bir Uttam Mir Shawkat Sharak, Gulshan-1, Dhaka 1212, Bangladesh
ফোন:
+8801911304121
ইমেইল:
info@banglalink.net
উপসংহার
তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগের মধ্যে বাংলালিংক ওয়াইফাই বর্তমানে একটি আলোচিত সেবা। অনলাইনে আবেদন, দ্রুত সংযোগ, বিভিন্ন মাসিক প্ল্যান এবং ১২ মাসের সাবস্ক্রিপশনে ফ্রি ডিভাইস সুবিধার কারণে অনেক গ্রাহক এই সেবার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে আবেদন করার আগে অবশ্যই আপনার এলাকায় সেবাটি উপলব্ধ আছে কি না তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। সংযোগ পাওয়া গেলে ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে অর্ডার সম্পন্ন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন-তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট! বর্তমানে কোন কোন এলাকায় Robi WiFi চালু হয়েছে










