ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি বেড়ে ২০ হাজার ছাড়াল, নতুন মৃত্যু নেই
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৪৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার ১০ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৮ হাজার ৫৬৭ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৪৪৩ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানে ৫৪১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। খুলনা বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৮ জন, বরিশালে ২৭৮ জন, ময়মনসিংহে ১১৮ জন এবং চট্টগ্রামে ১০৭ জন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, রংপুরে ২৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। আগের দিনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এ রোগে মোট ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে নতুন মৃত্যু না থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়ানোর বিষয়টি ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৬১ জনের মধ্যে ৩৯ জন নারী, যা মোট মৃত্যুর ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষের মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের, যা মোট মৃত্যুর ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ।
অঞ্চলভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবেও ঢাকার চিত্র সবচেয়ে বেশি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ২০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৭ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকার বাইরে খুলনায় ১০ জন, বরিশালে ৭ জন, ময়মনসিংহে ৬ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, রাজশাহীতে ৩ জন এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন স্থানের জমে থাকা পানি কিংবা যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার বিস্তার কমানো সম্ভব।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে নগর এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
