জুমার দিন যাদের গুনাহ মাফ করেন আল্লাহ

প্রকাশিত: 12-06-2026 12:38 AM

জুমাবার মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন। কোরআন ও হাদিসে এই দিনের অসংখ্য ফজিলত, বরকত এবং বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জুমার দিনের অন্যতম বড় সৌভাগ্য হলো, কিছু বিশেষ আমলের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

আরও পড়ুন- ইসলামে ব্যবসায় কত শতাংশ লাভ করা বৈধ? যা বলছে কোরআন ও হাদিস

জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“আল্লাহ তাআলা আগের জাতিগুলোর কাছে জুমার মর্যাদা অজ্ঞাত রাখেন। তাই ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রবিবার নির্ধারণ করে। অতঃপর আল্লাহ আমাদের কাছে জুমার দিনের মর্যাদা প্রকাশ করেন।”

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৬)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন।

জুমার দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য

আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“জুমার দিন আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবীতে অবতরণ করিয়েছেন, তাঁর মৃত্যু দিয়েছেন। এই দিনে এমন একটি সময় আছে যখন বান্দার দোয়া কবুল হয় এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।”

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)

এ কারণে ইসলামে জুমার দিনকে সৃষ্টিজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জুমার দিনে যে আমলে গুনাহ মাফ হয়

সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, যথাসাধ্য পবিত্রতা অর্জন করল, সুগন্ধি ব্যবহার করল, মসজিদে গেল, দুই মুসল্লির মাঝে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গেল না, নির্ধারিত নামাজ আদায় করল এবং ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনল, আল্লাহ তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)

এই হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিনের আদব ও সুন্নতগুলো যথাযথভাবে পালন করলে বান্দা গুনাহ মাফের সুসংবাদ লাভ করতে পারে।

আগে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“যে ব্যক্তি জুমার দিন প্রথমে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। এরপর যে যায়, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল।”

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)

হাদিসে জুমার নামাজের জন্য আগে মসজিদে যাওয়ার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

প্রতি কদমে এক বছরের সওয়াব

আউস বিন আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে আগে আগে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব লেখা হয়।”

(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)

জুমার দিনের বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়

জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তা তাকে দান করেন। তোমরা সেই সময়টি আছরের পর অনুসন্ধান করো।”

(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

আরেক বর্ণনায় এসেছে,

“জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল করা হয়।”

(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”

(সুরা গাফির, আয়াত: ৬০)

দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে—

  • আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা
  • পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করা
  • দোয়া কবুলে হতাশ না হওয়া
  • দৃঢ় বিশ্বাস ও মনোযোগ নিয়ে দোয়া করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ সে পাপ কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করে এবং দোয়ায় তাড়াহুড়া না করে।”

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৮২৯)

আবার তিনি বলেন,

“তোমরা কবুল হওয়ার দৃঢ়বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।”

(জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৭৯)

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ক্ষমা, রহমত ও দোয়া কবুলের এক মহাসুযোগ। তাই এই দিনে গোসল, পরিচ্ছন্নতা, আগে মসজিদে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। জুমার দিন শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফ অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুযোগ।

আরও পড়ুন- মুদারাবা কী? ইসলামে যৌথ ব্যবসার এই পদ্ধতির ১০ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, শিক্ষা, চাকরি,ইসলামিক,দ্রব্যমূল্য, বাজার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now