বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, দেরিতে বিয়ে এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি এবার স্মার্টফোন ও ডিজিটাল জীবনধারার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষকদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জনসংখ্যাবিষয়ক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্মার্টফোনের বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার মানুষের সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ এবং পরিবার গঠনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, স্মার্টফোনকে জন্মহার কমার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন-চিরতরে মোবাইলের বিজ্ঞাপন বন্ধ করার উপায় (১০০% কার্যকর টিপস)
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী আগের তুলনায় বেশি সময় অনলাইনে কাটাচ্ছেন। শিক্ষা, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফলে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে।
জনসংখ্যাবিদরা বলছেন, বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নত দেশে জন্মহার দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জার্মানি এবং চীনের মতো দেশগুলো এ সমস্যার মুখোমুখি। এসব দেশে সন্তান লালন-পালনের ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং কর্মজীবনের চাপকে জন্মহার কমার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে প্রযুক্তির প্রসারও সামাজিক আচরণে পরিবর্তন আনছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। অনেকেই বাস্তব সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তে ডিজিটাল যোগাযোগে বেশি সময় ব্যয় করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গঠনের ধরনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবন সম্পর্কে প্রত্যাশা এবং অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনছে। ফলে পরিবার গঠনের চেয়ে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার কিংবা স্বাধীন জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, স্মার্টফোন ব্যবহার বেশি এমন দেশে জন্মহার কম হওয়ার অর্থ এই নয় যে স্মার্টফোনই সরাসরি জন্মহার কমিয়ে দিচ্ছে। বরং অর্থনীতি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক মূল্যবোধ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তন—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ইতোমধ্যে জন্মহার বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, কোথাও শিশু লালন-পালনের খরচ কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা ভবিষ্যতে জনসংখ্যার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।
সূত্র: United Nations Population Division এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিবেদন।
আরও পড়ুন-ফোন হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন? জেনে নিন জরুরি করণীয়










