চোখের ক্ষতি কমাতে স্মার্টফোনের এই ৫টি সেটিং বদলে নিন

প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
চোখের ক্ষতি কমাতে স্মার্টফোনের এই ৫টি সেটিং বদলে নিন

ডার্ক মোড, ব্লু লাইট ফিল্টার ও অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস চালু রেখে স্মার্টফোন ব্যবহারে চোখের চাপ কমানো সম্ভব।

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। অফিসের কাজ, পড়াশোনা, সামাজিক যোগাযোগ, ভিডিও দেখা কিংবা অনলাইন কেনাকাটা—সবকিছুতেই এখন ফোনের ব্যবহার বেড়েছে। তবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে ক্লান্তি, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এবং ঘুমের সমস্যার মতো বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে ডিজিটাল আই স্ট্রেন বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিং পরিবর্তন এবং কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে চোখের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. রাতে ডার্ক মোড ব্যবহার করুন

রাতের অন্ধকার পরিবেশে অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন চোখে বেশি চাপ সৃষ্টি করে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা রাতে ডার্ক মোড ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

ডার্ক মোড চালু করলে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর হালকা রঙের লেখা দেখা যায়, ফলে স্ক্রিনের ঝলকানি কমে এবং অনেক ব্যবহারকারীর জন্য পড়তে তুলনামূলক আরামদায়ক হয়।

তবে দিনের বেলায় উজ্জ্বল পরিবেশে সবসময় ডার্ক মোড ব্যবহার সবার জন্য সমান সুবিধাজনক নাও হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী এটি ব্যবহার করাই ভালো।

২. ব্লু লাইট ফিল্টার বা নাইট শিফট চালু রাখুন

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের স্মার্টফোনেই Blue Light Filter, Eye Comfort Shield, Night Light বা Night Shift নামে সুবিধা থাকে।

এই ফিচার স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলোর মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে চোখের আরাম বাড়াতে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

অনেক ফোনে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এই ফিচার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু ও বন্ধ করার সুবিধাও রয়েছে।

৩. অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস চালু করুন

অনেকেই সবসময় সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় ফোন ব্যবহার করেন। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে চোখের ওপর চাপ বাড়ে।

Adaptive Brightness বা Auto Brightness চালু থাকলে ফোন আশপাশের আলোর পরিমাণ বুঝে নিজে থেকেই স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কম-বেশি করে।

ফলে উজ্জ্বল রোদ কিংবা অন্ধকার ঘর—দুই পরিবেশেই চোখের জন্য আরামদায়ক আলো বজায় থাকে।

৪. লেখার আকার বড় করুন

খুব ছোট ফন্টে লেখা পড়তে গেলে চোখকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

ফোনের Font Size এবং Display Size কিছুটা বড় করে নিলে দীর্ঘ সময় সংবাদ, ই-বুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও চোখ তুলনামূলক কম ক্লান্ত হয়।

বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি বা দৃষ্টিশক্তি দুর্বল, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী।

৫. স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে দিন

অনেক ফোনে স্ক্রিন দীর্ঘ সময় অন অবস্থায় থাকে, এমনকি ব্যবহার না করলেও।

স্ক্রিন টাইমআউট ১৫ বা ৩০ সেকেন্ডে সেট করে রাখলে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর ডিসপ্লে দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এতে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন এক্সপোজার কমে এবং ব্যাটারিও সাশ্রয় হয়।

শুধু সেটিং নয়, অভ্যাসও বদলাতে হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফোনের সেটিং পরিবর্তন করলেই হবে না। চোখ সুস্থ রাখতে কিছু ভালো অভ্যাসও গড়ে তোলা প্রয়োজন।

২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন

প্রতি ২০ মিনিট ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এতে চোখের পেশি কিছুটা বিশ্রাম পায়।

ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন

স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে সাধারণত চোখের পলক কম পড়ে। এতে চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই সচেতনভাবে ঘন ঘন পলক ফেলুন।

ফোনের সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন

ফোন মুখ থেকে অন্তত ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি দূরে রেখে ব্যবহার করুন। খুব কাছে ধরে ব্যবহার করলে চোখের ওপর চাপ বাড়ে।

সম্পূর্ণ অন্ধকারে ফোন ব্যবহার করবেন না

অন্ধকার ঘরে শুধু ফোনের আলো ব্যবহার করলে চোখকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। তাই সম্ভব হলে হালকা পরিবেশের আলো জ্বালিয়ে ফোন ব্যবহার করুন।

দীর্ঘ সময় একটানা ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

একটানা কয়েক ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন। এতে শুধু চোখ নয়, ঘাড় ও মস্তিষ্কও কিছুটা বিশ্রাম পায়।

চোখের সুরক্ষায় ছোট পরিবর্তনই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে

স্মার্টফোন ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া বর্তমান সময়ে প্রায় অসম্ভব। তবে কিছু সহজ সেটিং চালু করা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ডিজিটাল আই স্ট্রেনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডার্ক মোড, ব্লু লাইট ফিল্টার, অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস ও সঠিক স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন