ডিশ, ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে নতুন সুবিধা, Bangla QR নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা
ডিশ, ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে নতুন সুবিধা, Bangla QR নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা
ডিশ সংযোগ, ইন্টারনেট বিল কিংবা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে প্রতি মাসেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় অনেক গ্রাহককে। কখনও কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, আবার কখনও নির্দিষ্ট সময়ে বিল পরিশোধের জন্য ছুটতে হয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। এই ঝামেলা কমাতে নতুন একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরও পড়ুন-জুনের মধ্যে সব লেনদেন এক কোডে,বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে Bangla QR-এর মাধ্যমে খুব সহজেই ডিশ, ইন্টারনেট এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যাবে। এর জন্য আলাদা কোনো নতুন অ্যাপ ডাউনলোড করারও প্রয়োজন হবে না। ব্যবহারকারীরা নিজেদের মোবাইলে থাকা যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করেই বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিলের কাগজে বা সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার কাউন্টারে থাকা Bangla QR কোড স্ক্যান করলেই পেমেন্ট অপশন চালু হবে। এরপর ব্যবহারকারী তার পছন্দের এমএফএস বা ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে বিল পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, Bangla QR চালুর অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা এবং নগদবিহীন অর্থনীতি গঠনে সহায়তা করা। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের কারণে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিভ্রান্তি তৈরি হতো। Bangla QR সেই সমস্যার সমাধান করবে।
নতুন এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, গ্রাহকদের আর নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের ওপর নির্ভর করতে হবে না। একটি Bangla QR কোড ব্যবহার করেই বিভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এতে গ্রাহকের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে Bangla QR গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ছোট ব্যবসা, খুচরা দোকান এবং বিভিন্ন সেবা খাতে একক কিউআরভিত্তিক লেনদেন চালু হলে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে নাগরিকদের Bangla QR ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। তাদের মতে, ঘরের কাছের মুদি দোকান, রিটেইল শপ বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে Bangla QR থাকলে খুব সহজেই বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও কমবে এবং লেনদেন আরও নিরাপদ হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথে নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে Bangla QR একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বিল পরিশোধের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আধুনিক হবে।
সূত্র:বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ
আরও পড়ুন-জুলাই থেকে সব দোকানে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা

আপনার মতামত লিখুন
Array