মাছ-মাংস-ডিম-সবজির দাম আকাশছোঁয়া, নতুন ভাবে দাম বেড়ে যে দামে বিক্রি হচ্ছে
ডিম, সবজি ও মাছ-মাংসের বাড়তি দামে চাপে সাধারণ মানুষ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ডিম, সবজি, মাছ, মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনেও আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে এক ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকায়। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম উঠেছে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায়।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা, হাইব্রিড মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।
কাঁচাবাজারেও নেই স্বস্তি। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। বেগুনের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ঝিঙা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, চালকুমড়া ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারে বাড়তি চাপ
রাজধানীর কাওরান বাজারে ডিম কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। তার অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে ডিমের দাম বাড়ছে, কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনায় তেমন নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না।
তবে বিক্রেতাদের দাবি, খুচরা পর্যায়ে তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন না। আড়ত থেকেই বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে বলে তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এক ডিম বিক্রেতা বলেন, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করে তারা ৪ থেকে ৬ টাকা লাভ করেন। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বর্তমান দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ডিমের দাম মূলত উৎপাদন, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক বন্যায় বিভিন্ন এলাকার খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কিছু খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
মাছের বাজারেও বাড়তি দাম
খুচরা বাজারে মাছের দামও রয়েছে চড়া অবস্থায়। বর্তমানে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মান ও আকার অনুযায়ী চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি। পাবদা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা মাছ প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল মাছ প্রায় ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার
রাজধানীর নয়াবাজারে বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যে টাকায় পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত বাজার করা যেত, এখন একই টাকায় অনেক কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আয় না বাড়লেও খাবারের খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার তদারকি—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
