অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪২৬, প্রথম ইনিংসে লিড ২২৮ রানের
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের দাপট, লিড ২২৮ রানের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪২৬ রানে অলআউট হয়ে স্বাগতিকদের ওপর ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়েছে। প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ছিল ৩৫১/৬, আর তৃতীয় দিনে দলটি সম্পূর্ণ ইনিংস শেষ করে ৪২৬ রানে। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ, ২০০৬ সালে ফতুল্লায় গড়া ৪২৭ রানের রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি।
এই ঐতিহাসিক ইনিংসের মূল নায়ক তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, যিনি নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই খেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি—১৯৭ বলে ১০১ রান, যেখানে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৬৪ সালে হানিফ মোহাম্মদের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় এশীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান, মোমিনুল হক ৪৯ রানে আউট হয়ে তামিম ইকবালকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে ওঠেন, আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ রান। লেজের দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ প্রতিরোধ গড়ে দলের লিড আরও বাড়িয়ে নিতে সাহায্য করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্টিভ স্মিথ একাই লড়াই করে করেছিলেন ৭১ রান, আর বোলিংয়ে আগের দিন হাসান মাহমুদের ছয় উইকেট শিকার স্বাগতিকদের বড় ধাক্কা দিয়েছিল।
ম্যাচটি শুরু হয়েছে ১৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে এবং চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়, দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ পৌঁছায় ৩৫১/৬-এ, আর তৃতীয় দিনে তারা ইনিংস গুটিয়ে দেয় ৪২৬ রানে। এই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট।
খেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে, যেখানে দীর্ঘদিন পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছে বলে এটিকে “ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন” হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি হবে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।
বাংলাদেশের এই বড় সংগ্রহের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ধারাবাহিক জুটি গড়ে তোলা—তানজিদ ও মোমিনুলের দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রান, তানজিদ-শান্তর তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯৩ রান, এবং শান্ত-মুশফিকুরের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আরও ৬৬ রান যোগ হয়। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচে নামিয়েছে ব্র্যাডম্যান-পূর্ব যুগের পর তাদের সবচেয়ে বেশি বয়সী একাদশ, যা টানা দুই দিন ধরে বাংলাদেশের তরুণ তারকাদের সামনে ব্যাকফুটে ছিল। এই দুই কারণেই বাংলাদেশ এত বড় লিড নিতে সক্ষম হয়েছে।
শুরুতে তানজিদ ও মোমিনুল সতর্ক ব্যাটিং করে বোলারদের আক্রমণ ভোঁতা করে দেন, প্রথম ঘণ্টায় মাত্র তিনটি বাউন্ডারি মেরে খেলেন। এরপর তানজিদ বো ওয়েবস্টারকে ছক্কা মেরে দ্রুত রান তোলার গতি বাড়ান। স্টিভ স্মিথ ও নাথান লায়ন তাকে দুইবার জীবন দিলেও তানজিদ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং ডারউইনের দর্শকদের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা পান।মিডল অর্ডারে শান্তর দৃঢ়তা এবং লেজের দিকে মেহেদী-মাহমুদের প্রায় ২৫ ওভারের প্রতিরোধ দলের লিড শেষ পর্যন্ত ২২৮ রানে নিয়ে যায়। এখন অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে এই বড় ব্যবধান পেছনে ফেলে লড়াই শুরু করতে হবে, যদিও ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশ ৪২৭ রান করেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়ার ইতিহাস কামিন্সের দলকে কিছুটা আশা দিতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
