দেশের অনগ্রসর অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নতুন অর্থবছরে ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক সংকট দূর করতে নতুন নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আরও পড়ুন- ২০২৮ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে আসছে ৪ বিষয়, কী শিখবে শিক্ষার্থীরা?
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, এমপিও সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনগ্রসর এলাকার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। পাশাপাশি মোট শিক্ষার্থীর ৫ শতাংশকে বিনা খরচে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে।
অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ হাজার নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা গেলে গ্রামীণ ও পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা নয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতের সার্বিক বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ।
এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্যসূত্রঃ দৈনিক শিক্ষাডটকম
আরও পড়ুন- এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২০ জুলাই










