বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও বাস্তবজীবনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন- এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২০ জুলাই
চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা ও সংস্কৃতি
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি শিক্ষাক্রমের বাধ্যতামূলক অংশ হবে। বর্তমানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব কার্যক্রম থাকলেও তা মূল পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রাথমিকভাবে ফুটবল, দাবাসহ কয়েকটি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য খেলাও যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে সংস্কৃতি বিষয়ের আওতায় থাকবে গান, নাচ, আবৃত্তি, বিতর্ক, বক্তৃতা ও চিত্রাঙ্কনের মতো কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা
নতুন শিক্ষাক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন দক্ষতা শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকতে প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্কুলে কারিগরি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কী?
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হতে যাওয়া ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শুধু একটি বিষয় নয়, বরং শিক্ষার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।
এই বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, মানবাধিকার, সহমর্মিতা এবং নাগরিক সচেতনতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, সামাজিক কার্যক্রম ও জাতীয় দিবসভিত্তিক বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ থাকবে।
তৃতীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা
বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় একটি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার। যদিও কোন ভাষা অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কীভাবে হবে মূল্যায়ন?
নতুন যুক্ত হওয়া বিষয়গুলোতে প্রচলিত জিপিএ বা নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন থাকবে না। শিক্ষার্থীদের পাস বা ফেল ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ কমিয়ে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৭ সালে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ
সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালে সীমিত পরিসরে কিছু প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন বিষয়গুলো চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের পর ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বিষয় যুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষক, অবকাঠামো এবং কার্যকর বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমের প্রকৃত সুফল পাবে।










