বৃষ্টি শুধু প্রকৃতিকে সতেজ করে না, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর বিশেষ রহমতেরও প্রতীক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বৃষ্টিকে মানবজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে অনেকেই যানজট, জলাবদ্ধতা কিংবা দৈনন্দিন অসুবিধার কথা ভাবেন। কিন্তু একজন সচেতন মুসলমানের কাছে বৃষ্টির সময়টি হওয়া উচিত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও দোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আরও পড়ুন- মদ ও জুয়া কেন হারাম, ইসলাম কী বলছে
কোরআনে বৃষ্টির গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বৃষ্টিকে মানুষের জীবিকা ও কল্যাণের অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপন্ন করেছেন জীবিকারূপে।”
(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,
“তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন।”
(সুরা নুহ, আয়াত: ১১-১২)
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, বৃষ্টি শুধু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমতার একটি বড় নিদর্শন।
বৃষ্টির সময় দোয়া কবুলের সুসংবাদ
হাদিসে বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“দুটি সময়ের দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না—আজানের সময় এবং বৃষ্টির সময় করা দোয়া।”
(সহিহুল জামে, হাদিস: ৩০৭৮)
এ কারণে ইসলামি স্কলাররা বৃষ্টি শুরু হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রিজিকের বরকত, সুস্বাস্থ্য, নেক সন্তান এবং আখিরাতের সফলতার জন্য বেশি বেশি দোয়া করার পরামর্শ দেন।
বৃষ্টি হলে যে দোয়া পড়তেন নবীজি (সা.)
বৃষ্টি নামলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশেষ একটি দোয়া পড়তেন।
তিনি বলতেন,
“আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ।”
অর্থ: “হে আল্লাহ! এ বৃষ্টিকে কল্যাণকর ও উপকারী করে দিন।”
এই দোয়াটি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানোর আমল
হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো কখনো নিজের কাপড় সরিয়ে বৃষ্টির পানি শরীরে লাগাতেন।
হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একবার বৃষ্টির সময় নবীজি (সা.) এমনটি করলে সাহাবিরা এর কারণ জানতে চান। উত্তরে তিনি বলেন,
“এটি তার প্রতিপালকের কাছ থেকে সদ্য আগত।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৮)
এ থেকে বোঝা যায়, বৃষ্টিকে তিনি আল্লাহর রহমতের বিশেষ নিদর্শন হিসেবে দেখতেন।
মুমিনের করণীয় কী
ইসলামে শুধু দোয়া করাই যথেষ্ট নয়; দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন, আল্লাহর আনুগত্য এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, বৃষ্টির সময় একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা এবং আন্তরিকভাবে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা।
বর্তমান সময়ে বৃষ্টি নিয়ে বিরক্ত না হয়ে এটিকে আল্লাহর রহমত হিসেবে গ্রহণ করা এবং এই মূল্যবান সময়কে ইবাদত ও দোয়ায় কাজে লাগানোই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল।
বৃষ্টি যখন আকাশ থেকে ঝরে পড়ে, তখন শুধু প্রকৃতিই সজীব হয় না, আল্লাহর রহমতের দরজাও খুলে যায়। তাই এই সময়টিকে অবহেলা না করে দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।
সূত্র: প্রথম আলো
আরও পড়ুন- শুধু ‘কবুল’ নয়, যেসব শব্দগুলো বললেও সম্পন্ন হয় বিয়ে










