শুধু ‘কবুল’ নয়, যেসব শব্দগুলো বললেও সম্পন্ন হয় বিয়ে

ইসলামে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও পবিত্র চুক্তি। একজন মুসলমানের চরিত্র সংরক্ষণ, পরিবার গঠন এবং সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিয়েকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অযথা বিয়ে বিলম্ব না করার পরামর্শ দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

হাদিসে এসেছে, “হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে।” (সহিহ বোখারি: ৫০৬৫, সহিহ মুসলিম: ১৪০০)

আরও পড়ুন- মায়ের খিদমত ইহকাল-পরকালের সফলতা

অনেকের ধারণা, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য অবশ্যই ‘কবুল’ শব্দটি উচ্চারণ করতে হয়। তবে ইসলামি ফিকহের আলোকে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। বিশেষ করে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে ‘কবুল’ শব্দটি প্রচলিত হলেও এটিই একমাত্র গ্রহণযোগ্য শব্দ নয়।

বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মৌলিক শর্ত

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তাব (ইজাব), গ্রহণ (কবুল), স্পষ্ট ও বোধগম্য শব্দের ব্যবহার এবং সাক্ষীর উপস্থিতি।

ফিকহবিদদের মতে, একজন পক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দিলে অপর পক্ষকে তা স্পষ্টভাবে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিও প্রয়োজন। (দুররুল মুখতার, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া)

কবুল’ ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে বৈধ হয়

ফিকহে হানাফির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘কবুল’ শব্দ ছাড়া আরও কিছু শব্দ রয়েছে, যেগুলো দ্বারা বিয়ের সম্মতি প্রকাশ পেলে নিকাহ সহিহ বা বৈধ হয়ে যায়।

এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ক্ববিলতু’, যার অর্থ “আমি গ্রহণ করলাম”। এটি সরাসরি সম্মতি প্রকাশ করে এবং বিয়ের গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে গণ্য হয়।

এছাড়া ‘রদ্বিতু’ বা “আমি রাজি হলাম” বললেও তা কবুল হিসেবে ধরা হয়। কারণ এতে বিয়ের প্রস্তাবে স্পষ্ট সম্মতি প্রকাশ পায়।

বর যদি বলেন ‘তাজাওয়াজতুহা’ অর্থাৎ “আমি তাকে বিবাহ করলাম”, তাহলেও তা বৈধ গ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

একইভাবে ‘আনকাহতু নাফসি ইয়্যাহু’ অর্থাৎ “আমি নিজেকে তার সঙ্গে বিবাহ করলাম” বাক্যটিও বিয়ের স্বীকৃতি প্রকাশ করে।

প্রতিনিধির মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে পরে মূল ব্যক্তি যদি ‘আজাযতুহু’ বা “আমি অনুমোদন করলাম” বলেন, তাহলেও নিকাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার)

যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামি আইনবিদরা বলেন, বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু শব্দ নয়, শব্দের অর্থও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহৃত শব্দের মাধ্যমে স্থায়ী ও বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের অর্থ প্রকাশ পেতে হবে।

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, ইজাব ও কবুলের শব্দ অবশ্যই বর্তমান কালে হতে হবে। যেমন—“করলাম”, “গ্রহণ করলাম”, “রাজি হলাম” ইত্যাদি। ভবিষ্যৎকাল বোঝায় এমন শব্দ যেমন “করব”, “দেব” বা “গ্রহণ করব” ব্যবহার করলে নিকাহ সম্পন্ন হবে না।

এছাড়া ব্যবহৃত শব্দের অর্থ স্থায়ী মালিকানা বা বৈবাহিক বন্ধনের ইঙ্গিত বহন করতে হবে। ভাড়া, ধার বা অস্থায়ী সম্পর্ক বোঝায় এমন শব্দ ব্যবহার করলে বিয়ে শুদ্ধ হবে না।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের গুরুত্ব

ইসলামে বিয়েকে মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। এটি শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে চলা এবং সঠিক নিয়ম জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।

সূত্র : দৈনিক কালবেলা

আরও পড়ুন- পুরো পৃথিবীই নামাজের জায়গা হলে মসজিদের প্রয়োজন কেন?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

শিক্ষা ও চাকরি বিষয়ক প্রতিবেদক

আমি শিক্ষা, চাকরি, ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন লিখি। তথ্যভিত্তিক ও পাঠকবান্ধব কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং সচেতন পাঠকদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা নীতি, ভর্তি, পরীক্ষা, ফলাফল, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সরকারি-বেসরকারি চাকরির আপডেট ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সংবাদ বিশ্লেষণধর্মীভাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। সহজ ভাষা, নির্ভুল তথ্য এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে আমি সবসময় গুরুত্ব দিই। বর্তমান প্রজন্মের জন্য কার্যকর ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দিতে আমি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now