পাশে থাকা মানুষকে নয়, আপনাকেই কেন বেশি কামড়ায় মশা?
শরীরের গন্ধ, তাপমাত্রা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে মশার আকর্ষণ বাড়তে পারে।
একই ঘরে কয়েকজন মানুষ থাকলেও দেখা যায়, মশা যেন একজনকেই বেশি পছন্দ করে। কেউ বারবার মশার কামড় খাচ্ছেন, আবার পাশে থাকা অন্য ব্যক্তি প্রায় অক্ষত থাকছেন। এর পেছনে রয়েছে মানুষের শরীরের কিছু স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
শরীরের গন্ধ মশাকে আকর্ষণ করে
মশা মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। ঘাম, ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ও শরীরের প্রাকৃতিক গন্ধের কারণে কারও গন্ধ মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।
প্রতিটি মানুষের শরীরের গন্ধ আলাদা হওয়ায় মশার পছন্দও ভিন্ন হতে পারে।
বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়লে মশার নজরে পড়েন
মানুষ শ্বাস ছাড়ার সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বের করে। মশা দূর থেকে এই গ্যাস শনাক্ত করতে পারে।
যারা তুলনামূলক বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়েন, যেমন বড় শরীরের মানুষ বা শারীরিক পরিশ্রমের পর থাকা ব্যক্তি, তাদের প্রতি মশার আকর্ষণ বেশি হতে পারে।
রক্তের গ্রুপের প্রভাব
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মশা কিছু রক্তের গ্রুপের মানুষকে তুলনামূলক বেশি পছন্দ করতে পারে। বিশেষ করে ‘ও’ গ্রুপের রক্তের মানুষের প্রতি কিছু প্রজাতির মশার আকর্ষণ বেশি দেখা গেছে।
তবে শুধু রক্তের গ্রুপই নির্ধারণ করে না কে বেশি কামড় খাবেন; আরও অনেক বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।
শরীরের তাপমাত্রা ও ঘামের প্রভাব
মশা শরীরের তাপমাত্রার পার্থক্য বুঝতে পারে। যারা বেশি গরম অনুভব করেন, ঘামেন বা ব্যায়ামের পর থাকেন, তাদের শরীর মশার কাছে সহজে শনাক্ত হতে পারে।
পোশাকের রংও ভূমিকা রাখতে পারে
গাঢ় রঙের পোশাক যেমন কালো, নীল বা লাল রঙের দিকে কিছু মশার আকর্ষণ বেশি হতে পারে। কারণ এসব রং মশাকে দূর থেকে মানুষ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও হরমোনের পরিবর্তন
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে মশার কামড়ের প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে। কারণ গর্ভাবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে।
তাহলে মশার কামড় কমানোর উপায় কী?
- শরীর ঘামে ভিজে থাকলে দ্রুত পরিষ্কার হওয়া।
- রাতে মশারি ব্যবহার করা।
- জানালা-দরজায় নেট ব্যবহার করা।
- জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা।
- প্রয়োজন হলে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা।
- ঘুমানোর আগে ঘর ভালোভাবে পরীক্ষা করা।
সবশেষে, মশা কাউকে বেশি কামড়ায় মানেই সেই ব্যক্তি অপরিষ্কার—এমন ধারণা ভুল। শরীরের গন্ধ, তাপমাত্রা, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জৈবিক পার্থক্যের কারণে একই ঘরে থেকেও কারও প্রতি মশার আকর্ষণ বেশি হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
