তামাকের মোড়কে আইন লঙ্ঘনের চিত্র, গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
তামাকের মোড়কে আইন লঙ্ঘনের চিত্র, গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

গবেষণায় তামাকজাত পণ্যের মোড়কে আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে।

তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়ার হার কিছুটা বাড়লেও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত জায়গাজুড়ে সতর্কবাণী প্রদানের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। গত বছরের তুলনায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ব্যবহারের হার ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৮ শতাংশে পৌঁছালেও, আইন অনুযায়ী মোড়কের নির্ধারিত ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী রয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ মোড়কে।

এ ছাড়া ৭৩ শতাংশ তামাকজাত পণ্যের মোড়কের উভয় পাশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স, উৎপাদনের তারিখ, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি) এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রেও মোড়কজাতকরণ বিধিমালা অনুসরণে ব্যাপক ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আইন অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়ন: বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট, টিসিআরসি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

গবেষণায় দেশের আটটি বিভাগীয় শহর—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—থেকে তামাকজাত পণ্যের মোড়ক সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৯৪টি তামাকজাত পণ্যের মোড়ক গবেষণার আওতায় নেওয়া হয়।

গবেষণায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ধারা ১০ এবং পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা, ২০২১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে মোড়কগুলোর বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়। এতে স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আকার ও অবস্থান ছাড়াও তামাকজাত পণ্যের মোড়কে থাকা বাধ্যতামূলক তথ্যগুলো সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ব্যবহারের সামগ্রিক হার ৮৮ শতাংশে পৌঁছানো ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও আইন অনুযায়ী মোড়কের নির্ধারিত ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সতর্কবাণী না থাকা বড় ধরনের ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে উভয় পাশে সতর্কবাণী না থাকায় ভোক্তাদের কাছে স্বাস্থ্যঝুঁকির বার্তা পৌঁছানোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, তামাকজাত পণ্যের মোড়কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ম মানছে না। ট্রেড লাইসেন্স, উৎপাদনের তারিখ, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না করার প্রবণতা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তামাকজাত পণ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকিও প্রয়োজন।

গবেষণায় উঠে আসা ঘাটতিগুলো দূর করতে বাজারে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তাদের মতে, তামাকজাত পণ্যের মোড়ক সংক্রান্ত বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভোক্তাদের মধ্যে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগও আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page