ডিসি লেককে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ কচুরিপানা অপসারণ শুরু

প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
ডিসি লেককে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ কচুরিপানা অপসারণ শুরু

ডিসি লেকে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম।

টাঙ্গাইল শহরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ডিসি লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কচুরিপানা এবং জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে জানিয়েছেন, পুরো লেক পরিষ্কার করার পাশাপাশি এটিকে একটি আধুনিক মিনি পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল ডিসি লেক পরিদর্শন শেষে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর তিনি উপস্থিত নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে লেকের কচুরিপানা ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী লেকের পানির অবস্থা, পরিবেশ, সৌন্দর্য এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে লেকে জমে থাকা কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ডিসি লেক টাঙ্গাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশেরও অন্যতম প্রতীক। তাই এর পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিসি লেককে ঘিরে সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো লেক পরিষ্কার করার পর এর অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে এটিকে একটি আকর্ষণীয় মিনি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইলের চর এলাকাকে বৃহৎ পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ডিসি লেক এবং আশপাশের চর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এলাকাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ডিসি লেকে কচুরিপানা, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা জমে থাকায় এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। এতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছিল। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় লেকটি আবারও আগের সৌন্দর্য ফিরে পাবে বলে আশা করছেন তারা।

এ সময় জেলা প্রশাসক শরীফা হক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলমসহ জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসি লেককে ঘিরে সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল শহরে নতুন পর্যটন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি লেকের পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page