সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি কী, জানালেন শাহরুখ খান

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সুখী দাম্পত্যের চাবিকাঠি কী, জানালেন শাহরুখ খান

সুখী দাম্পত্যের জন্য পারস্পরিক সমঝোতা ও মানিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শাহরুখ খান।

বলিউডের ‘কিং অব রোমান্স’ শাহরুখ খান শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও সম্পর্ক নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে দেখা যায়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ‘আস্ক এসআরকে’ সেশনে এক ভক্ত নবদম্পতিদের সুখী দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি জানতে চাইলে অভিনেতা গুরুত্ব দিয়েছেন পারস্পরিক সমঝোতা ও মানিয়ে নেওয়ার ওপর।

ভক্তের প্রশ্নের উত্তরে শাহরুখ বলেন, ‘একে অপরের রঙে রঙিন হয়ে ওঠো… নিজেদের মধ্যে মানিয়ে নাও, যাতে তোমরা দুজনেই সঙ্গীকে আরও সুখী করতে পারো।’

শাহরুখের এই পরামর্শের মূল কথা হলো, দাম্পত্য জীবনে দুজন মানুষকে একে অপরের অভ্যাস, পছন্দ ও প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। তবে এই মানিয়ে নেওয়ার অর্থ নিজের স্বাতন্ত্র্য বা ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলা নয়।

সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়ও স্বাস্থ্যকর অ্যাডজাস্টমেন্টকে সঙ্গীর জন্য নিজের জীবনে জায়গা তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সঙ্গী কীভাবে মানসিক চাপ বা দ্বন্দ্বের সময় প্রতিক্রিয়া দেখান, তা বুঝে যোগাযোগের ধরন বদলানো, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া কিংবা কঠিন সময়ে একে অপরের প্রয়োজনকে সম্মান করা—এসব বিষয় সম্পর্ককে আরও সহযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

দাম্পত্যে একতরফা ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একজন সঙ্গী সব সময় অন্যজনকে খুশি করতে নিজের পছন্দ, প্রয়োজন কিংবা স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দেবেন—এমন সম্পর্ককে স্বাস্থ্যকর সমঝোতা হিসেবে দেখা হয় না। বরং দুজনেরই একে অপরের সুখ, মানসিক শান্তি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকা জরুরি।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিস্থিতির কারণে দায়িত্বের ভারসাম্যও বদলাতে পারে। অসুস্থতা, ক্যারিয়ারের চাপ, গর্ভাবস্থা কিংবা শোকের মতো কঠিন সময়ে একজন সঙ্গীকে সাময়িকভাবে বেশি দায়িত্ব নিতে হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দুজনের কাছেই সম্পর্কটি যেন সমান মর্যাদা ও যত্নের জায়গা হয়ে থাকে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

শাহরুখের বক্তব্যের আরেকটি দিক হলো, ভালোবাসার সম্পর্কে দুজন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের অভ্যাস, স্বাদ ও চিন্তাভাবনায় প্রভাবিত হন। কিন্তু সেই প্রভাব যেন কারও নিজস্ব পরিচয় মুছে না দেয়। বরং আলাদা বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই দুজনের মধ্যে নতুন একটি বোঝাপড়া তৈরি হওয়াকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

সম্পর্কের লক্ষ্য শুধু সঙ্গীকে খুশি করা নয়; বরং এমন একটি বন্ধন তৈরি করা, যেখানে দুজন মানুষই ভালোবাসা, সম্মান, স্বতন্ত্রতা ও সুখ অনুভব করতে পারেন। তাই বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার আগে কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখা যেতে পারে।

প্রথমত, সিদ্ধান্তটি নিজের ইচ্ছায় নেওয়া হচ্ছে কি না, নাকি ‘না’ বললে সম্পর্কের পরিণতি কী হবে—এই ভয়ে মেনে নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সঙ্গীও একইভাবে নিজের প্রয়োজন ও মানসিক শান্তির জন্য জায়গা তৈরি করছেন কি না। তৃতীয়ত, সমঝোতাটি শুধু কোনো অভ্যাস পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি নিজের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিতে হচ্ছে।

এর পাশাপাশি সম্পর্কের মধ্যে অসম্মান বা মানসিক অবহেলার শিকার না হয়ে নিজের মতের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আর বারবার আপস করার পরও একজন মানুষ সম্পর্কের মধ্যে নিজের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পারছেন কি না—সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন।

শাহরুখ খানের কথায়, ভালোবাসায় মানিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সেই মানিয়ে নেওয়া যেন দুজনের একজনের অস্তিত্বকে মুছে না দেয়। বরং দুজনের আলাদা ‘রঙ’ অক্ষুণ্ণ রেখেই সম্পর্কের মধ্যে নতুন একটি সুন্দর সমন্বয় তৈরি করাই হতে পারে সুস্থ দাম্পত্যের অন্যতম ভিত্তি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page