মাঝ আকাশে ইসরায়েলগামী বিমানের দুই পাইলটের মারামারি, যা জানা গেল

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মাঝ আকাশে ইসরায়েলগামী বিমানের দুই পাইলটের মারামারি, যা জানা গেল

পাইলটকে ছুরিকাঘাতের পর সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান।

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে দুই পাইলটের মধ্যে একজন অন্যজনকে ছুরিকাঘাত করার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ঘটনায় দুই পাইলট আহত হয়েছেন। বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় এবং নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরের দিকে চলে যায়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনার পর দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে একজন যাত্রী ও একজন ক্রু সদস্য ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাকে গ্রেপ্তার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানান তিনি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সৌদি আরবের আকাশসীমায় বিমানটির উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২১ মিনিটের দিকে দুই মিনিটেরও কম সময়ে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়।

এর কয়েক মিনিট পর বিমানটি জরুরি সংকেত স্কোয়াক ৭৭০০ পাঠায়। পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত স্কোয়াক ৭৫০০ পাঠানো হয়। বিমানটি অল্প সময়ের জন্য জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলেও পরে আবার সৌদি আরবের দিকে ফিরে আসে।

স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাদের আঘাতের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত জানায়নি।

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ফ্লাইটের ককপিটে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে বলেও জানায় এয়ারলাইনটি। যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তার জন্য তাবুক বিমানবন্দরে দুটি বিকল্প বিমান পাঠানো হয়েছে।

বিমানে অন্তত ১৫০ জন আরোহী ছিলেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি নাগরিক।

ঘটনার পর যাত্রীদের কয়েকজন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ককপিটের কাছে চিৎকার ও রক্তাক্ত অবস্থার দৃশ্য দেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব যাত্রীবর্ণনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এক যাত্রীর স্বজন রয়টার্সকে জানান, বিমানে থাকা তার মেয়ে ফোন করে চিৎকারের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন পাইলট সাহায্যের জন্য ডাকছিলেন এবং পরে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ককপিটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।

আরেক যাত্রী ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিমান দ্রুত নিচে নামতে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। কেউ কেউ পাইলটদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা করেছিলেন বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পর ইসরায়েল ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়। নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে যাত্রীদের নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানান।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘটনাটিকে ‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য বা এটি সন্ত্রাসী হামলা ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ, জরুরি সেবা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফ্লাইদুবাই বলেছে, যাত্রী হিসেবে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রুরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন এবং বিমানটি নিরাপদে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ঘটনার তদন্তে সরকারি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে এয়ারলাইনটি। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page