রেমিট্যান্সে বড় চমক, মোটরসাইকেল-স্মার্টফোন জয়ের সুযোগ কৃষি ব্যাংকে
কৃষি ব্যাংকের রেমিট্যান্স উৎসবে মোটরসাইকেল ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কারের আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রবাসীদের বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে ২০২৬ সালে বিশেষ ‘কৃষি ব্যাংক রেমিট্যান্স উৎসব’ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ৪০ দিনের কর্মসূচিতে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় গ্রহণকারী গ্রাহকদের জন্য ছিল লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কর্মসূচির সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উৎসবটি ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত চলেছে।
কৃষি ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আহরণ বাড়ানো। উৎসবে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে পাঠানো প্রবাসী আয় গ্রহণকারী গ্রাহকদের লটারির আওতায় আনা হয়। অর্থাৎ আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে পুরস্কারের জন্য অংশ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কৃষি ব্যাংকের শাখায় সরাসরি স্পট ক্যাশে প্রবাসী আয় গ্রহণ করা কিংবা গ্রাহকের কৃষি ব্যাংকের হিসাবে রেমিট্যান্স জমা হওয়ার ভিত্তিতে গ্রাহকরা লটারিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
এই উৎসবে মোট পুরস্কারের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কৃষি ব্যাংকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, লটারিতে মোট ৩৯ জন বিজয়ী নির্বাচন করা হয়েছিল। অন্যদিকে উৎসব শুরুর সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৩৮ জন গ্রাহককে পুরস্কৃত করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে উভয় সূত্রেই নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে, পুরস্কারের মধ্যে একটি ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল ছিল মেগা পুরস্কার এবং বিভিন্ন বিভাগীয় কার্যালয়ের গ্রাহকদের জন্য স্যামসাং ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনসহ অন্যান্য পুরস্কার রাখা হয়েছিল।
উৎসবের ঘোষিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, কৃষি ব্যাংকের ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, ফরিদপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও সিলেট—এই নয়টি বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রতিটিতে তিনজন করে মোট ২৭ জন গ্রাহককে স্মার্টফোন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের মধ্য থেকে আরও কয়েকজনকে ফ্রিজ, টেলিভিশন, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়ার কথা জানানো হয়। সবচেয়ে বড় পুরস্কার হিসেবে রাখা হয়েছিল হেলমেটসহ ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেল।
এই আয়োজনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে একজন গ্রাহক মেগা পুরস্কার হিসেবে মোটরসাইকেলও পেয়েছেন। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাজিতপুর শাখার গ্রাহক রাবেয়া লটারিতে মোটরসাইকেল জেতেন। তাঁর স্বামী মালয়েশিয়া থেকে কৃষি ব্যাংকের বাজিতপুর শাখায় রাবেয়ার হিসাবে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছিলেন। পরে লটারিতে রাবেয়া মেগা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন এবং ৬ মে ২০২৬ তারিখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া হয়।
কৃষি ব্যাংকের এই রেমিট্যান্স উৎসব এমন সময়ে আয়োজন করা হয়, যখন দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্স আহরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স অর্জনের মাইলফলক উদযাপনের তথ্য রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই কৃষি ব্যাংক তার নির্ধারিত রেমিট্যান্স লক্ষ্যমাত্রার ১৭১ শতাংশ অর্জন করেছিল। ওই সময়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স আহরণে কৃষি ব্যাংক শীর্ষে এবং দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বলে ব্যাংক সূত্রের বরাতে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ব্যাংকটির রেমিট্যান্স আহরণ ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে বলেও জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রেমিট্যান্স উৎসবের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মূলত প্রবাসী আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে আনার বিষয়ে গ্রাহকদের উৎসাহিত করা হয়। এতে প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা দেশে অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার আওতায় থাকেন। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে কোনো পুরস্কার বা লটারি নিশ্চিত নয়—এ ধরনের কর্মসূচিতে পুরস্কার পাওয়া সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও লটারির ফলাফলের ওপর নির্ভর করে।
সব মিলিয়ে, কৃষি ব্যাংকের ২০২৬ সালের রেমিট্যান্স উৎসব ছিল প্রবাসী আয় আহরণ বাড়াতে একটি বিশেষ প্রচারণামূলক উদ্যোগ। এতে মোটরসাইকেল, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল এবং ইতোমধ্যে মেগা পুরস্কার বিজয়ীর হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ৩০ মার্চ ২০২৬-এ এই কর্মসূচির সময়সীমা শেষ হওয়ায় বর্তমানে এটিকে চলমান অফার হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ভবিষ্যতে কৃষি ব্যাংক নতুন কোনো রেমিট্যান্স উৎসব বা পুরস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করলে তার শর্ত ও সময়সীমা ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেখে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
