ট্রাম্পের নতুন চাল, ইরানকে ঘিরে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্পের নতুন চাল, ইরানকে ঘিরে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টসহ নতুন মার্কিন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট ও একটি মেরিন অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। এর ফলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার শুক্রবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে পাঠানো বহরে ৭ হাজারের বেশি নাবিক ও প্রায় ২ হাজার মেরিন সেনা রয়েছে। ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের পাশাপাশি ইউএসএস ম্যাকিন আইল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মেরিন অ্যাম্ফিবিয়াস ফোর্সও এ মোতায়েনের অংশ।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরী রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। নতুন বহর পৌঁছালে অঞ্চলটিতে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ থাকার পরিস্থিতি তৈরি হবে। এমন মাত্রার মার্কিন নৌ উপস্থিতি চলতি বছরের এপ্রিলের পর আবার দেখা যেতে পারে; সে সময় ২০০৩ সালের পর প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ একসঙ্গে ছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে। তবে নতুন সামরিক মোতায়েনকে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বোমা হামলা জোরদার করা হতে পারে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি। তার ভাষ্য, প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট ছিল না। ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও ট্রাম্প সতর্কতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করলে সেটিকে সম্মান করে; কিন্তু ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে তার অভিযোগ রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর এই উদ্যোগের মধ্যে ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের যাত্রা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন মোতায়েনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নাবিক ও মেরিন সেনা যুক্ত হওয়ায় অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়বে। তবে এই মোতায়েনের পর ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page