‘নগর বাউল’ জেমসের জন্মদিন, সুরের পথচলা আজও অমলিন

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
‘নগর বাউল’ জেমসের জন্মদিন, সুরের পথচলা আজও অমলিন

জন্মদিনে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন নগর বাউলখ্যাত মাহফুজ আনাম জেমস।

দেশের রক সংগীতের জনপ্রিয় তারকা ও ‘নগর বাউল’খ্যাত মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গানের মাধ্যমে তৈরি করেছেন আলাদা শ্রোতাগোষ্ঠী। সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও শ্রোতাদের রুচিতে পরিবর্তন এলেও গিটার হাতে জেমসের গান এখনো সমানভাবে টানে অসংখ্য শ্রোতাকে।

জন্মদিন উপলক্ষে নিজের বিশেষ দিন উদযাপন ও জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জেমস। তার কাছে জন্মদিনের সংখ্যা একটিই। জেমস বলেন, ‘জন্মদিন একটাই, তুমি যেদিন জন্মেছ। তারপর এগুলো তো আর জন্মদিন নয়। যেদিন জন্মেছ, আর যেদিন মৃত্যু হবে সেদিন মৃত্যুদিন—দুইটাই আছে।’

বিশেষভাবে জন্মদিন উদযাপনের প্রতি নিজের অনাগ্রহের কথাও জানান এই শিল্পী। তিনি বলেন, কোনো বিশেষ আয়োজন করে জন্মদিন পালন করেন না। সাধারণত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েই দিনটি পার করেন।

নিজের সংগীতচর্চার উদ্দেশ্য নিয়েও জেমসের বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সমাজ বদল করার জন্য আসিনি। সমাজকে আনন্দ দেওয়ার জন্য এসেছি।’

সংগীত ও সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন জেমস। তার ভাষ্য, সময়ের পরিবর্তনে অনেক ‘আর্ট ফর্ম’ হারিয়ে গেছে। তবে এখনো কিছু শিল্পচর্চা টিকে আছে, যেগুলো মানুষ ভালোবাসা ও প্যাশন থেকেই ধরে রেখেছে।

গান ও সংস্কৃতির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত না করার পক্ষে জেমস। তিনি বলেন, গান তৈরি হয়েছে মানুষের শোনার ও গাওয়ার জন্য। যে যার মতো গান করছে, করুক। নিজের ইচ্ছামতো পথে-ঘাটে গান গাওয়ার মধ্যেও সংস্কৃতির স্বাভাবিক প্রকাশ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জেমসের ভাষায়, ‘সংস্কৃতি হচ্ছে নদীর মতো, এটা বয়ে চলবে। বাধা দিলে বরং বাধাগ্রস্ত হবে।’ তার মতে, শিল্প ও সংস্কৃতিকে নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া উচিত।

নওগাঁয় জন্ম হলেও জেমসের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। সংগীতের প্রতি গভীর টান থেকে একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধ হয় তার। এরপর ঘর ছাড়েন তিনি। চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে শুরু হয় তার সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। সেই পথচলা দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এখনো অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে জেমস উপহার দিয়েছেন ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘নগর বাউল’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘পালাবে কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’ ও ‘কাল যমুনা’র মতো অ্যালবাম। তার জনপ্রিয় গানের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে রয়েছে ‘তারায় তারায়’, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’, ‘সুস্মিতার সবুজ ওড়না’, ‘হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা’, ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী’, ‘দিদিমনি’, ‘বাবা কত দিন দেখি না তোমায়’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘লিখতে পারি না কোনো গান’ ও ‘এক নদী যমুনা’।

বাংলাদেশের সিনেমায় প্লেব্যাক করেও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন জেমস। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও পরিচিতি পেয়েছেন এই শিল্পী। সেখানে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’, ‘চাল চালে’, ‘আলবিদা’, ‘রিশতে’ ও ‘বেবাসি’ গানগুলোও শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়।

দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় জেমসের কণ্ঠ ও গানের নিজস্ব ধরন বাংলা রক সংগীতে তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের ভিড়েও তার গান এখনো শ্রোতাদের কাছে ফিরে আসে। জন্মদিনে তাই নতুন কোনো আয়োজন নয়, নিজের মতো করে পরিবারকে সময় দেওয়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ‘নগর বাউল’ জেমস।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page